spot_img

আমিরাতে অর্থ স্থানান্তরে সৌদির কড়াকড়ি

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অর্থ স্থানান্তরের ওপর নজরদারি আরও কঠোর করেছে সৌদি আরব। দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার সর্বশেষ লক্ষণ হিসেবে এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রক নজরদারি সাধারণত সেসব দেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, যেগুলোকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি জানেন এমন তিন ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নতুন এসব ব্যবস্থা এখনো প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি। তবে এর মাধ্যমে আর্থিক অপরাধের দিক থেকে সৌদি আরবের কাছে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত অর্ধডজনের বেশি দেশের তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও রাখা হয়েছে।

বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে লেনদেন করতে গিয়ে তারা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদের কোম্পানির বিভিন্ন মুদ্রায় পাঠানো অর্থ সৌদি ব্যাংকগুলো বিলম্বিত করেছে অথবা ফেরত পাঠিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

সৌদি আরবের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবশ্য জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কোনো দেশের ওপর সরাসরি কোনো বিধিনিষেধ নেই।

অন্যদিকে আমিরাতের এক কর্মকর্তা বলেছেন, দেশটির অর্থনীতি মন্ত্রণালয় বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে দুই দেশের মধ্যে ব্যাংক ট্রান্সফার সম্পন্ন করতে সমস্যা বা অস্বাভাবিক বিলম্বের কোনো অভিযোগ পায়নি।

সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তেল খাত, ইয়েমেনের সংঘাত এবং ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও দখলদার অবৈধরাষ্ট্র ইসরাইলের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দুই দেশের বিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গত মাসে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব আমিরাতের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর বিলম্বিত করেছে অথবা আটকে দিয়েছে। এতে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিরোধ বাণিজ্যিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দুই দেশের টানাপোড়েন শুধু আর্থিক খাতেই সীমাবদ্ধ নেই। গত ডিসেম্বরে আমিরাতের সামরিক সরঞ্জামের একটি চালানে সৌদি আরব বিমান হামলা চালায়। সরঞ্জামগুলো আবুধাবি-ঘনিষ্ঠ ইয়েমেনি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের জন্য পাঠানো হচ্ছিল। ধুবাব এলাকায় চালানো ওই হামলাকে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার বড় একটি ঘটনা হিসেবে দেখা হয়।

এরপর সৌদি আরব ও আমিরাতের বহুল অনুসৃত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যমের মধ্যেও পাল্টাপাল্টি সমালোচনা দেখা যায়।

মার্চে আমিরাত সৌদি টেলিভিশন চ্যানেল আল আরাবিয়ার এক্স অ্যাকাউন্টগুলো নিষিদ্ধ করে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাত ওই যুদ্ধে তুলনামূলক কঠোর অবস্থান নেয় এবং ইরানে কয়েক ডজন বিমান হামলা চালায়।

অন্যদিকে সৌদি আরব উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি তায়েফের কিং ফাহাদ বিমানঘাঁটি আমেরিকানদের জন্য খুলে দিতে সম্মত হয়। একই সময়ে ইসলামাবাদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলারও চেষ্টা করে রিয়াদ।

এরপর মে মাসে প্রায় ৬০ বছরের সদস্যপদ শেষে রিয়াদের নেতৃত্বাধীন তেল উৎপাদক দেশগুলোর জোট ওপেক থেকে বেরিয়ে যায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। পরবর্তী সময়ে দেশটি ব্যাপকভাবে তেল উৎপাদন বাড়ায়।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ