spot_img
spot_img

নিজেদের নিরাপত্তা সংকটের দায় আফগানিস্তানের ওপর চাপাবেন না: পাকিস্তানকে মুজাহিদ

পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকটের দায় আফগানিস্তানের ওপর না চাপিয়ে নিজেদের সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, পাকিস্তান আফগান ভূখণ্ডে সামরিক হামলা চালালে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর পাল্টা জবাব দেবে আফগানিস্তান।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সৌদি সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), বেলুচ সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অন্যান্য সংগঠনের সঙ্গে পাকিস্তানের সংঘাত দীর্ঘদিনের। ২০২১ সালে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান পুনরায় ক্ষমতায় আসার বহু আগে থেকেই এসব সমস্যা বিদ্যমান ছিল। তাই পাকিস্তানের উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকটের দায় আফগানিস্তানের ওপর না চাপিয়ে নিজেরাই তা সমাধান করা।

এর আগে আল আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী অভিযোগ করেন, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সদস্য সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মুজাহিদ বলেন, আফগান সরকার টিটিপিকে নিজেদের ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয় না। আফগানিস্তান কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন করে না এবং অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতিও দেয় না।

পাকিস্তানের সম্ভাব্য সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত আত্মরক্ষার অধিকারের অজুহাতে পাকিস্তান যদি আফগান ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে, তাহলে আফগানিস্তানেরও নিজেদের দেশ রক্ষার অধিকার রয়েছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আফগান ভূখণ্ডে যেকোনো সামরিক হামলার কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।

তবে পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে সংলাপ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চায় আফগান সরকার। মুজাহিদ বলেন, দুই দেশের মধ্যকার সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও পারস্পরিক সহযোগিতার আরও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিরোধ নিরসনে সৌদি আরবের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন আফগান মুখপাত্র।
তিনি বলেন, সৌদি আরব উভয় দেশেরই বন্ধু। তাই কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যকার মতপার্থক্য দূর করতে রিয়াদ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন মুজাহিদ। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের পুনর্গঠন এবং দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

সূত্র : আরিয়ানা নিউজ, আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনাল ও জিও নিউজ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ