পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো পাসপোর্ট বা এনআইডি দেয় না। তবে এগুলো সংগ্রহ করে আমরা বিদেশে পাঠিয়ে থাকি। সেগুলো যেতে অনেকক্ষেত্রে বেশ দেরি হয়ে যায়, তাতে প্রবাসীরা অসন্তুষ্ট হন। সেক্ষেত্রে আশা করবো, জেলা প্রশাসকরা আরও যত্নশীল হবেন। যাতে এসব সেবা আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব হয়। প্রবাসীদের হয়রানিমুক্ত সেবা দিতে ডিসিদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে বলেছি।
বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক সম্মলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ডিসিদের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, আমাদের প্রায় এক কোটির বেশি প্রবাসী রয়েছে। তাদের বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। প্রবাসীরা সঠিক সময়ে পাসপোর্ট পান না, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স হয় না। দেশে আসলেও অনেক সময় তারা হয়রানির শিকার হন। অনেক সময় তাদের ভূমি বেদখল হয়ে যায়। সময়মতো তারা ম্যারিজ সার্টিফিকেট, বার্থ সাটিফিকেট পান না। বিদেশে মারা গেলে মরদেহ আনতে তথ্য পাওয়া যায় না। এ ধরনের অনেক অভিযোগ রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সাল আমাদের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একাধিক কাজ করেছে। মুজিব চিরন্তন করেছি, ২৩৬টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বার্তা নিয়ে এসেছি, যেগুলো ভালো খবর। বিশ্ব শান্তি সম্মেলন করেছি। ইউনেসকো বঙ্গবন্ধু ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ড শুরু করেছি। ফলে সারা বিশ্ব বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করেছে। সুখবরগুলোর মধ্যে ছিল, এলডিসি থেকে উত্তরণ। তবে এ উত্তরণের সঙ্গে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সেজন্য এলডিসির চলমান সুবিধা পেতে ইউরোপীয় ইউনিয়নে দেন-দরবার করা হয়েছে। তারা আমাদের যে সুবিধা দিয়ে থাকে, তা ২০২৯ সাল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। টেকনোলজি খাতেও ২০৩৩ সাল পর্যন্ত সুযোগ-সুবিধা বলবৎ থাকবে।
তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধি বা স্থানীয় প্রশাসন কিংবা সরকারি অফিসে গেলে প্রবাসীদের সে ধরনের সম্মান দেওয়া হয় না। যেহেতু তারা নির্বাচিত এবং জনগণের কাছে কমিটমেন্ট করেছেন, তাই সেসব বিষয়ে আরও যত্নশীল হতে হবে।
ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, দুঃখজনক যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ হয় না। সেজন্য আমরা বলেছি এ দেশের বড় সম্পদ হচ্ছে প্রাণী এবং মানুষ। এ মানুষগুলোর কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগ দিতে হবে।










