বিশ্বের অনেক দেশ ও প্রতিবেশী অঞ্চলের আগেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে আফগানিস্তান। বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক হিসাবের বাইরে গিয়ে, সম্পূর্ণ নিজস্ব শরিয়াহ বিচারব্যবস্থা ও ‘রুহিয়াত-ই-হিলাল’ বা চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এ ঘোষণা দেয়।
আফগানিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের চাঁদ দেখার মূল ভিত্তি হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস, “তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা ছাড়ো (ঈদ করো)।” আফগান প্রশাসনের নীতি হলো, অন্য কোনো দেশের ঘোষণার জন্য অপেক্ষা না করে বা বৈশ্বিক ধারা অনুসরণ না করে, দেশের ভেতরে বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর মাধ্যমে খালি চোখে চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করা। যদি দেশের যেকোনো প্রান্তে চাঁদ দেখার অকাট্য সাক্ষ্য বা শাহাদাহ পাওয়া যায়, তবে তারা নিজস্ব সীমানার মধ্যে ঈদের ঘোষণা দেয়।
ভৌগোলিক অবস্থান ও আবহাওয়াগত কারণে পৃথিবীর সব জায়গায় একই দিনে চাঁদ দেখা যায় না। ইসলামী ফিকহে একে বলা হয় ‘ইখতিলাফ আল-মাতালে’ বা উদয়স্থলের ভিন্নতা। আফগানিস্তানে মূলত হানাফি ফিকহের আইনি কাঠামো অনুসরণ করা হয়। এই বিধান অনুযায়ী, যদি কোনো অঞ্চলে শরিয়তসম্মত উপায়ে চাঁদ দেখা প্রমাণিত হয়, তবে সেই নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষের জন্য রোজা ভাঙা বা ঈদ করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। নিয়ম অনুযায়ী, ফারাহ, কান্দাহার বা অন্য কোনো প্রত্যন্ত প্রদেশের স্থানীয় কাজীর কাছে চাঁদ দেখার প্রত্যক্ষদর্শীরা উপস্থিত হয়ে শপথপূর্বক সাক্ষ্য দেন। এরপর কেন্দ্রীয় সুপ্রিম কোর্ট তা কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করে সমগ্র দেশের জন্য চূড়ান্ত ঘোষণা জারি করে।
আধুনিক যুগে অনেক দেশ প্রযুক্তিগত হিসাব বা প্রভাবশালী দেশগুলোর, যেমন সৌদি আরবের, চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে নিজেদের ঈদ উদযাপন করে থাকে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তান এ ক্ষেত্রে একটি স্বতন্ত্র ও নিজস্ব অবস্থান নিয়েছে। তারা বৈশ্বিক প্রবণতা বা শুধুমাত্র জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক অনুমানের চেয়ে, নিজস্ব ভূখণ্ডে শরিয়াহ আদালতের মাধ্যমে যাচাইকৃত সাক্ষ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
আফগানিস্তানের এ ঈদ উদযাপন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি তাদের নিজস্ব শরিয়াহ কাঠামোর ভিত্তিতে চাঁদ দেখার সনাতন পদ্ধতির প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি প্রয়োগ।










