দেশের কওমি মাদরাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের শাস্তিস্বরূপ প্রহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। একই সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন প্রতিরোধ, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং অভিযোগের দ্রুত তদন্তে দেশের ছয়টি বোর্ড ও অধিভুক্ত সব ছাত্র ও ছাত্রী মাদরাসার প্রতি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যানের আদেশক্রমে অফিস ব্যবস্থাপক মু. অছিউর রহমানের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কওমি মাদরাসায় ছাত্র নির্যাতন এবং কতিপয় ব্যক্তির অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রকাশিত হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তবে বিচ্ছিন্ন ঘটনার দায় সমগ্র কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সংগত নয়।
গত ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত আল-হাইআতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটির ৬৯তম সভা এবং ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত সংশ্লিষ্ট সাবকমিটির সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের শাসনের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শাসনের উদ্দেশ্য হতে হবে সংশোধন ও কল্যাণ, প্রতিশোধ নয়। রাগের অবস্থায় শাস্তি দেওয়া যাবে না। প্রথমে নম্রভাবে সতর্ক করা, প্রয়োজনে ভর্ৎসনা ও ধমকের পরও সমস্যা সমাধান না হলে অভিভাবককে ডেকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থীকে শাস্তিস্বরূপ প্রহার করা যাবে না।
লাঠি, বেত বা অন্য কোনো যন্ত্র দিয়ে আঘাত, মুখমণ্ডল ও মাথাসহ স্পর্শকাতর অঙ্গে আঘাত এবং রক্তপাত, হাড় ভাঙা বা শরীরে দাগ সৃষ্টিকারী শাস্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রকাশ্যে অপমান, গালমন্দ, কটু ভাষা ও মানসিক নির্যাতনমূলক আচরণও পরিহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা লঙ্ঘনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
শিক্ষার্থী সুরক্ষায় প্রতিটি মাদরাসায় সুরক্ষা কমিটি গঠন বা পুনর্গঠন করে সক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো অভিযোগ কমিটির কাছে জানানোর সুযোগ রাখতে হবে এবং সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে হবে। কমিটি না থাকা বা নিষ্ক্রিয় থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মাদরাসার ইলহাক স্থগিত বা বাতিল হতে পারে।
এ ছাড়া শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ইসলাহী মজলিস, নতুন শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক তারবিয়াতি মজলিস এবং অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ মোকাবিলা ও মাদরাসাবিরোধী অপপ্রচার প্রতিরোধে প্রতিটি বোর্ডে পৃথক মনিটরিং সেল ও হটলাইন চালু করতে বলা হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে সতর্কতা, অভিযোগ পাওয়ামাত্র নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মিথ্যা অপবাদের শিকার নিরপরাধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য আইনগত প্রতিকারের ব্যবস্থার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনে আল-হাইআতুল উলয়ার কেন্দ্রীয় হটলাইন ০১৭০০-৭৬৩১৭৮ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করা যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। দেশের সব কওমি মাদরাসা, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।











