ফিলিস্তিন স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন ইসলামিক জিহাদের ২ শীর্ষ সামরিক গোয়েন্দাকে হত্যার দাবী করলো বিশ্ব মানবতার শত্রু ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল।
বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) পশ্চিম তীরের জেনিনে বিমান হামলা পরবর্তী এক যৌথ বিবৃতিতে একথা জানায় অবৈধ রাষ্ট্রটির সেনা ও গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ।
বিবৃতিতে বলা হয়, জেনিনে আজ ইসলামিক জিহাদের অন্যতম ২ শীর্ষ সামরিক গোয়েন্দার গাড়িকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরাইলী বিমানবাহিনী। এতে সামরিক গোয়েন্দা আহমদ বারাকাত ও মুহাম্মদ শাওয়াখিন সহ সংগঠনটির আরো ২ সদস্য নিহত হয়।
অপরদিকে ফিলিস্তিন স্বাধীনতাকামী ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সশস্ত্র সংগঠন কাসসাম বিগ্রেড এক বিবৃতিতে জানায় যে, আজ জেনিনে ইসরাইলের এক হামলায় তাদের জেনিন শাখার ৩ সদস্য নিহত হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেনি এখনো স্বাধীনতাকামীদের সশস্ত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া দলটি।
হামলায় বেঁচে যাওয়া এক সাধারণ ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, আমি যা প্রত্যক্ষ করেছি তা অত্যন্ত ভয়াবহ ছিলো, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
তার ভাষ্যমতে, বিমান থেকে নিক্ষিপ্ত বোমা বিস্ফোরণের সময় একেবারে সামনেই একটি গাড়ি ছিলো যাতে চড়ে একজন ব্যক্তি ও তার স্ত্রী কোথাও যাচ্ছিলেন। ভাগ্য ভালো যে, বিস্ফোরণের এত কাছে থাকা সত্ত্বেও তাদের কোনো ক্ষতি হয়নি।
উল্লেখ্য, আমেরিকা, ব্রিটেন সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রত্যক্ষ সহায়তায় দখলকৃত ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজ্জায় ৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে গণহত্যা পরিচালনা করে আসছে বিশ্ব মানবতার শত্রু ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল। এখন পর্যন্ত নারী-শিশু সহ ৩১ হাজার ৯২৩ বেসামরিক ফিলিস্তিনিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে অবৈধ রাষ্ট্রটির সন্ত্রাসী সেনারা। আহত করেছে ৭৪ হাজার ৯৬ নিরীহ ফিলিস্তিনিকে।
এছাড়া সর্বাত্মক অবরোধ অব্যাহত রাখায় ধীরে ধীরে পূর্ণ মাত্রার দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে অঞ্চলটির জনগণ। খাদ্যাভাব, অপুষ্টি ও পানিশূন্যতার ফলে এখন পর্যন্ত অর্ধশত শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ইসরাইলী অবরোধ অব্যাহত থাকায় খাদ্যভাবের ফলে ইতিমধ্যে ২ লক্ষ ২০ হাজার ফিলিস্তিনি প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অপুষ্টি ও পানিশূন্যতায় ভুগছে এসব শিশুরা।
এছাড়া সতর্ক করা হয় যে, গাজ্জায় ইসরাইলী অবরোধ ও যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে অবিলম্বে পূর্ণমাত্রার দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে অঞ্চলটিতে। যার ফলে চলমান মানবিক বিপর্যয়ের আরো অবনতি ঘটবে।
সূত্র: আল জাজিরা











