উচ্চমান ও ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক আস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে আফগান জাফরানের চাহিদা বাড়ছে। আমেরিকা ও ইউরোপের পাশাপাশি চীন এবং কয়েকটি আরব দেশেও রপ্তানি হচ্ছে আফগানিস্তানের এই মূল্যবান কৃষিপণ্য। ব্যাংকিং ও অর্থ স্থানান্তরের জটিলতা সত্ত্বেও জাফরান খাত দেশটির রপ্তানি আয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
অর্থ স্থানান্তর ও ব্যাংকিং জটিলতার মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে আফগান জাফরান। বিশ্বের অন্যতম উৎকৃষ্ট মানের জাফরান হিসেবে এর সুনাম বাড়ছে। ফলে ক্রমেই বেশি সংখ্যক দেশে রপ্তানি বাড়ছে উচ্চমূল্যের এই কৃষিপণ্যের।
উৎপাদনের মানে ধারাবাহিক উন্নতি, প্যাকেটজাতকরণ ও মোড়কীকরণে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ এবং রপ্তানির আগে চালান পরীক্ষাগারে যাচাই করার কারণে আফগান জাফরানের প্রতি আমদানিকারকদের আস্থা বেড়েছে। এর ফলে বিদেশি বাজারে আফগান পণ্যের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলছে।
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে জাফরান রপ্তানি থেকে প্রায় ৪৫ লাখ আমেরিকান ডলার আয় করেছে আফগানিস্তান। এই সময়ে প্রায় ২ দশমিক ৯ টন জাফরান বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা হয়েছে। আমেরিকা, ইউরোপ, চীন ও কয়েকটি আরব দেশে আফগান জাফরানের চাহিদা বাড়ছে বলে এই পরিসংখ্যান থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
তবে ইতিবাচক এই অগ্রগতির পরও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকিং-সংক্রান্ত নানা সমস্যার মুখে রয়েছে। আমেরিকার পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের সম্পদ জব্দ করে রাখা এবং অর্থ স্থানান্তরের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় রপ্তানি আয়ের পূর্ণ সুবিধা নিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
সরাসরি অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা না থাকায় রপ্তানি আয়ের অর্থ বাইরের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন করতে হয়। এতে পাওনা অর্থ হাতে পৌঁছাতে দেরি হয়। অনেক সময় এই বিলম্ব দুই মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে।
এদিকে দেশের ভেতরে জাফরান খাতের উৎপাদনভিত্তি বিস্তৃত হচ্ছে। চলতি বছর আফগানিস্তানে জাফরান উৎপাদনের পরিমাণ ৪০ টন ছাড়িয়েছে। ১২ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমিতে এখন জাফরান চাষ হচ্ছে। চাষাবাদ, ফসল সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন ধাপে ৮০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে এই খাত।
এসব সূচক প্রমাণ করে, জাফরান এখন আর শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়। এটি আফগানিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্যে পরিণত হয়েছে। জাতীয় অর্থনীতিকে সহায়তা করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই খাতের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সাফল্য থেকে পূর্ণ সুবিধা পেতে হলে আর্থিক ও ব্যাংকিং বাধাগুলোর কার্যকর সমাধান জরুরি।
সূত্র: হুরিয়াত রেডিও











