ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংলাপের পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।
সরকারি সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সময়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এ সংলাপের জন্য এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
মঙ্গলবার (২০ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় সংবাদমাধ্যমটি।
সোমবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালে যান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা।
একই দিনে আন্দোলনের দাবিদাওয়া নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) একটি প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে নাড্ডা আন্দোলনকারীদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
তবে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, তারা সরকারের কাছে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী যেসব পরীক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন তাদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং হাসপাতালে ভর্তি থাকা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া।
সৌরভ দাস বলেন, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
শনিবার আন্দোলনের সমর্থনে ২১ দিনের অনশন পালনরত সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর পরদিন হাজারো শিক্ষার্থী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ করেন।
সোমবার বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষে বহু আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হন।
এদিকে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, প্রশ্নফাঁস রোধ করা জাতীয় দায়িত্ব এবং এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ভারতের ইতিহাসের তরুণবিরোধী প্রধানমন্ত্রী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রশ্নফাঁসের বিচার দাবি করা শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছ থেকে জবাব পাওয়ার পরিবর্তে লাঠিচার্জের মুখোমুখি হচ্ছেন।
সূত্র: এনডিটিভি










