spot_img
spot_img

ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ককরোচ পার্টির অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান নিয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সমর্থকেরা। জেন-জি প্রজন্মের এই রাজনৈতিক আন্দোলনের কর্মীরা সেখানে তাঁবু খাটিয়েছেন। নয়াদিল্লিতে জুনের তীব্র গরমের মধ্যেও আন্দোলনকারী রাতে রাস্তা ও ফুটপাতে ঘুমান। ব্যাপক পুলিশ উপস্থিতির মধ্যেই দ্বিতীয় দিনে তাদের সঙ্গে আরো মানুষ যোগ দেন।

ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ২৫ বছরের কম বয়সি। পড়ালেখা ও চাকরির চাপে থাকা যুবসমাজের মধ্যে ঘন ঘন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং ফলে অসঙ্গতির কারণে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দিপকের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) যুবকদের এই ক্ষোভ ও হতাশাকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে।

কিছুদিন আগেও এটি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতুক ও কটাক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি যুবসমাজকে তেলাপোকার (ককরোচ) সঙ্গে তুলনা করলে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তখন দিপকে এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছিলেন, ‘সব তেলাপোকা যদি একসঙ্গে জড়ো হয়, তবে কী হবে?’

দ্রুতই এই ভাবনা ভাইরাল হয়। দিপকে একটি আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট খোলেন। তাদের ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যা গত ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ভারতের ক্ষমতাসীন দলের চেয়ে দ্বিগুণ।

নয়াদিল্লির নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল ‘যন্তর মন্তর’-এ মধ্যরাতের পর ১৮ বছর বয়সি শচীন কুমার তার নতুন বন্ধু শুভঙ্করের সঙ্গে তারযুক্ত ইয়ারফোন ভাগাভাগি করে রাস্তায় শুয়ে ছিলেন। শচীন এক বছর ধরে কঠোর পড়াশোনা করে গত মাসে ভারতের শীর্ষ মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের কারণে পরবর্তীতে পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়।

আল জাজিরাকে শচীন বলেন, ‘এটি আমার মনোবল ভেঙে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিষণ্নতায় চলে যাচ্ছে, কিন্তু কেউ পরোয়া করছে না।’ এরপর থেকে তিনি আর বই ছুঁয়ে দেখেননি।

গত রোববার প্রায় ১৭ লাখ শিক্ষার্থী আবারও পরীক্ষায় অংশ নিলেও শচীন প্রতিবাদস্থলেই থেকে যান। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ভারত সরকার সাময়িকভাবে মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ করেছে। সরকারের সমালোচকেরা একে একটি সাময়িক বা ‘ব্যান্ড-এইড’ সমাধান হিসেবে আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছেন।

দুই পরীক্ষার মধ্যবর্তী দিনগুলোতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ১৫-এর বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে আরো জোরালো করেছে।

শচীন বলেন, ‘এই পরীক্ষা বা অন্য যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতার ওপর আমার আর কোনো আস্থা নেই। ভারতের সবকিছুই অযোগ্য মন্ত্রীদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা ক্ষমতাকে তাদের উত্তরাধিকার মনে করেন।’

এটি শচীন ও শুভঙ্কর উভয়ের জন্যই জীবনের প্রথম প্রতিবাদ কর্মসূচি। মা-বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তারা রাস্তায় ঘুমাচ্ছেন এবং শিগগিরই বাড়ি ফেরার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

তাদের মতো লাখ লাখ তরুণের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী শাসনই একমাত্র রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। কারণ ২০১৪ সালে মোদি যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন থেকে তারা এই শাসনই দেখে আসছেন।

শনিবার সন্ধ্যা থেকে দিল্লির পুলিশ ব্যারিকেড দেওয়া আন্দোলনস্থল থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে বিভিন্ন চাপ সৃষ্টি করছে। এর মধ্যে সাময়িকভাবে তাদের পানি ও খাবারের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়াও অন্তর্ভুক্ত ছিল। মধ্যরাতের পর অবশিষ্ট আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ হিপ-হপ গানের তালে নাচছিলেন, আবার কেউ কেউ গোল হয়ে বসে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন।

দিপকে এবং তার সমর্থকেরা জোর দিয়ে বলেছেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা এই স্থান ছাড়বেন না। এটি যদি ঘটে, তবে মোদির ১২ বছরের শাসনকালে তা হবে প্রথম কোনো ঘটনা।

পদত্যাগ আসবেই বলে নিশ্চিত দিপকে। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘সরকার যদি ভেবে থাকে যে আমাদের ক্লান্ত করে ফেলবে, তবে তারা ভুল করছে। আমরা এখানেই থাকব।’

সূত্র: আল-জাজিরা

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ