spot_img
spot_img

ভারতে থানা থেকে মুক্তি পেয়েই পুনরায় বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলনে আটক হওয়া বিক্ষোভকারীরা মুক্তি পেয়েই আবার ফিরে এসেছেন আন্দোলনস্থলে। গত সোমবার পুলিশের লাঠিচার্জ ও আটকের ঘটনার পর মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে অনেকেই থানা থেকে ছাড়া পেয়ে সরাসরি যন্তর মন্তরে ফিরে যান।

বুধবার (২২ জুলাই) ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী কৃষ্ণাকে সোমবার যন্তর মন্তর থেকে তাকে আটক করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। কৃষ্ণার অভিযোগ, আটকের সময় কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্য তার চুল ধরে টানাহেঁচড়া করেছেন। তিনি বলেন, আমি আগে ভাবতাম পুলিশ মানুষকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু সোমবার তারা আমার চুল ধরে টেনেছে এবং জেলে পাঠানোর কথা বলেছে।

একই ঘটনায় আটক হয়েছিলেন ২১ বছর বয়সী সমীর দোরওয়াল। ছাড়া পাওয়ার পর তিনি সরাসরি যন্তর মন্তরে ফিরে এসে তিনি বলেন, মা-বাবাকে বলেছিলাম বন্ধুর বাড়িতে আছি। তারা এখনো জানেন না আমাকে আটক করা হয়েছিল। তবে শিক্ষাব্যবস্থার অবস্থা দেখে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বাড়ি ফিরে আবার আন্দোলনে যোগ দেবেন। পাঁচ হাজার টাকার বন্ডে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সমীর। আগামী আগস্টে তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির হতে হবে।

আইপি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষার্থী ২২ বছর বয়সী সিদ্ধার্থের কাছে আটকের অভিজ্ঞতা ছিল ভয়ের। তিনি জানান, পুলিশ যখন আমাকে ধরে, তখন খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পরে কী হবে তা নিয়ে কোনো ধারণাই ছিল না। তবে অবাক করা বিষয় হলো, থানায় পুলিশ আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেছে। তিন দিন ধরে যন্তর মন্তরে অবস্থান করা সিদ্ধার্থ বলেন, এ ঘটনা তার প্রতিবাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।

আলিগড় থেকে আসা ৩৮ বছর বয়সী সীমা যাদব ও তার ১৬ বছর বয়সী মেয়ে কৃষ্ণাও সোমবার আটক হয়েছিলেন। সীমা জানান, অন্তত ২০ জন পুলিশ সদস্য তাদের আটক করে আলাদা করে দেন। তাকে প্রায় এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। দিল্লিতে কোনো আত্মীয় না থাকায় পাঁচ দিন ধরে তারা গুরুদুয়ারা বাংলা সাহিবে থেকেছেন। মা-মেয়ে এখন আবার যন্তর মন্তরে ফিরে এসে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যন্তর মন্তরে উল্লাসধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে যখন ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ঘোষণা করেন যে সোমবার আটক সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষও যোগ দিচ্ছেন। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে চলেছেন।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ