বুধবার | ১১ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

শাহবাগে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রসংস্কার, সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ইনসাফভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ছাত্র সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার (২২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ ছাত্র সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় সমাবেশে ৭দফা দাবী সংবলিত প্রস্তাবিত ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুনতাছির আহমাদ।

১. ২৪ পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে যেনো কোন নির্বাচিত স্বৈরাচার, দুর্নীতিবাজ, লুটেরা ও সন্ত্রাসী শ্রেনী রাষ্ট্রক্ষমতাকে ব্যবহার করে জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংস করতে না পারে এবং একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করতে না পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক রাষ্ট্রসংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং ছাত্রজনতার প্রত্যাশার প্রতিফলন স্বরুপ শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে হবে।

২. নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তে আগামী জাতীয় নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মের প্রতিটি ভোটের মূল্যায়ন, ফ্যাসিজমের পূণরাবৃত্তি রোধ এবং জাতীয় সরকার গঠনে সংসদের প্রস্তাবিত উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে।

৩. জুলাই ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে বৈষম্যহীন শোষন নিপীড়ন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মানে জাতীয় ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ ঘোষণা করতে হবে এবং জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদের আইনিভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৪. ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন এবং ২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্য মুক্তির আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ইনসাফ ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

৫. ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির নামে অপরাজনীতি এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম রোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও সহাবস্থান তৈরি, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত এবং জাতীয় পর্যায়ে সৎ, যোগ্য ও আদর্শ নেতৃত্ব তৈরিতে সকল ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। একইসাথে ঘোষিত ডাকসু, জাকসু ও রাকসুতে তফসিল অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

৬. পতিত ফ্যাসিবাদ এবং পিলখানা, শাপলা ও জুলাই সহ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এবং বিদেশে পালাতক অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার ও শাস্তি নিশ্চিতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।

৭. দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও খুনখারাবি রোধে প্রশাসনকে কার্যকর দায়িত্ব পালন করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমদ মানসুরের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল শেখ মাহবুবুর রহমান নাহিয়ানের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতী রেজাউল করীম।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী ফয়জুল করীম, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, সহকারী মহাসচিব আহমাদ আবদুল কাইয়ুম প্রমূখ।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ