সিরিয়ার ২০২৬ সালের বাজেট প্রায় ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমাদ হুসাইন আল-শারাআ আল-জুলানী বলেছেন, এই বাজেটের বড় অংশ পুনর্গঠন, বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবর্তন, অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় করা হবে।
শুক্রবার দামেস্কে ঈদুল ফিতরের নামাজের পর দেওয়া বক্তব্যে আহমাদ শারাআ বলেন, চলতি বছর সিরিয়ার মোট দেশজ উৎপাদন ৬০ থেকে ৬৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অর্থনীতি আবার ২০১০ সালের অবস্থানে ফিরবে এবং জনসেবারও উন্নতি হবে।
আহমাদ শারাআ বলেন, সরকার বাস্তুচ্যুতদের শিবিরের অবসান এবং মানুষকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়াকে অগ্রাধিকার দেবে। এ জন্য ইদলিব ও আলেপ্পোসহ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৫ সালে সরকারি ব্যয় বেড়ে প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর মোট দেশজ উৎপাদন প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে প্রথমবারের মতো বাজেটে উদ্বৃত্তও রেকর্ড হয়েছে।
আহমাদ শারাআ আরও বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে, যা সরকারি ব্যয় থেকেই অর্থায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের বাজেটের অতিরিক্ত অর্থ দেইর আল-যোর, হাসাকা ও রাক্কার মতো পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতেও ব্যয় করা হবে। দাঈশবিরোধী যুদ্ধের সময় এসব অঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেখানে সেবাখাত পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের বাজেটের প্রায় ৪০ শতাংশ স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় করা হবে।
আহমাদ শারাআ বলেন, সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসা অঞ্চলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ আবারও রাষ্ট্রের হাতে এসেছে, যা অর্থনীতিকে সহায়তা করছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, পুনর্গঠনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগবে।
তিনি আরও বলেন, বহু বছরের সংঘাতের পর সিরিয়া এখন স্থিতিশীলতা চায় এবং বিদেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী।
পুনর্গঠনের ধারায় দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগও বাড়ছে। উপসাগরীয় দেশগুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হিসেবে সামনে এসেছে। এর মধ্যে সৌদি আরব বহু বিলিয়ন ডলারের বড় অবকাঠামো প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ড ৮০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বন্দর চুক্তি সই করেছে।
সূত্র : আনাদুলো










