যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত একটি সমঝোতা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, তাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইরানের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি হবে কি না, যা দেশটিকে পুনর্গঠন করে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ দেবে, নাকি তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দ্রুত ধ্বংস করে দেবেন, যাতে তারা আর মানুষ ও দেশগুলোকে হত্যা ও ধ্বংস করার সুযোগ না পায়।
এর প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ ও খাতামুল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘প্রচার’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে। তারা আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে আরও ভয়াবহ, ধ্বংসাত্মক ও অনির্দেশ্য আঘাত হানার জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দেয়।
তবে উত্তপ্ত বক্তব্যের মধ্যেই প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। আমেরিকার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ওই বৈঠকে অংশ নেন। পরে ট্রাম্প বৈঠকটিকে খুব ভালো ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন।
উইটকফ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীরা সারাদিন দুই পক্ষের মধ্যে যাতায়াত করে আলোচনা চালিয়ে গেছেন বলেও জানান তিনি।
উইটকফ আরও বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা তাদের কাজ চালিয়ে যাবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মঙ্গলবারের আলোচনা গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক হবে।
ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। এসব দেশ হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল পুনরায় চালু করতে আগ্রহী। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়। তবে একই সঙ্গে দেশগুলো তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে।
এসব দেশের অনেকগুলোতেই বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। চলমান সংঘাতের সময় এসব ঘাঁটি ইরানের হামলার শিকার হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন ইরানের সঙ্গে পরিস্থিতি ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই শেষ হতে পারে, এমনকি তার আগেও হতে পারে। তবে কখন কী ঘটে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র : রয়টার্স











