ফিলিস্তিনের গাজ্জা ভূখণ্ডে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের আগ্রাসনের ফলে ২ লাখ ৩০ হাজার নারী।
যুদ্ধবিরতির পর তিন মাসের বেশি সময় পার হয়েছে। কিন্তু বিধ্বস্ত ভূখণ্ডটিতে চুক্তির শর্ত হিসেবে হামলা বন্ধ করেনি ইসরাইল। একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় খাবার ও চিকিৎসা সরঞ্জামসহ ত্রাণসামগ্রী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে দখলদার বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পুরো উপত্যকায় ১৫ হাজার গর্ভবতী নারীসহ দুই লাখ ৩০ হাজার নারী ও মেয়েশিশু তাদের প্রয়োজনীয় প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জাতিসংঘের অধীন পপুলেশন ফান্ডের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ইসরাইলি সামরিক হামলা ও অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
তিনি বলেন, আগ্রাসনে গাজ্জার হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চিকিৎসাকেন্দ্র ধ্বংস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তুচ্যুতি ও বন্যা ‘মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সংকীর্ণ করে তুলেছে।’
এদিকে শুক্রবার দক্ষিণ গাজ্জার খান ইউনুসে তীব্র ঠান্ডায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ছয় মাস বয়সি ইউসুফ আবু হামমালা নামের এ শিশুটির মৃত্যুতে চলতি শীতে উপত্যকায় ১১ জনের মৃত্যু হলো। ইসরাইলি হামলায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা শীতের তীব্রতা থেকে যথাযথ আত্মরক্ষায় সমর্থ হচ্ছেন না। ফলে শীতের বৈরিতায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
প্রচণ্ড দুর্ভোগের মধ্যেই গাজ্জাবাসীকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। শুক্রবার উপত্যকার বিভিন্ন স্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরাইলি সেনারা। স্থানীয় সূত্র জানায়, গাজ্জা শহর, রাফাহ, খান ইউনুসে কামানের গোলা বর্ষণ করে ইসরাইলি বাহিনী। এদিকে আগের দিন বৃহস্পতিবার ইসরাইলি হামলায় চার ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আগের ৪৮ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় ১১ জন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে যুদ্ধবিরতির তিন মাসের বেশি সময়ে গাজ্জায় ৪৭৭ জন নিহত ও এক হাজার ৩০১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া আরো ৭১৩ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে এ সময়।
সবমিলিয়ে গাজ্জায় ইসরাইলি আগ্রাসনে ৭১ হাজার ৫৬২ জন নিহত ও এক লাখ ৭১ হাজার ৩৭৯ জন আহত হয়েছেন।
গাজ্জার পাশাপাশি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরেও চলছে ইসরাইলি তাণ্ডব। শুক্রবার ভোরে নাবলুসের কাছাকাছি তালফিত ও বাইতা গ্রাম থেকে অভিযান চালিয়ে চার ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করে ইসরাইলি সেনারা। এছাড়া বেথলেহেমের বিভিন্ন স্থান থেকে আরো ছয় ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গাজ্জায় ইসরাইলি আগ্রাসনের দুই বছরের বেশি সময়ে পশ্চিম তীরে অন্তত এক হাজার ১০৭ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরাইল। এছাড়া ইসরাইলি সেনাদের হামলায় এ সময় আহত হয়েছেন প্রায় ১১ হাজার ফিলিস্তিনি। গ্রেপ্তার হয়েছেন ২১ হাজার।











