পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জিএম কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে এখনও নিষিদ্ধ নয়। আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া হচ্ছে না ঠিক আছে, কিন্তু তাদের মানুষকে ভোট দিতে দেবেন না, নাগরিকত্বের অধিকার দেবেন না, এটি কখনো কোনো দেশে হয়নি। তারা নির্বাচনে আসতে চাইলে তাদের চাপ দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ আমাদের ভোট দিলে ঠিক আছে, কিন্তু জাতীয় পার্টিকে দেওয়া যাবে না। তাহলে জাতীয় পার্টির কি অপরাধ। জামায়াত, বিএনপি, এনসিপি সবাই আওয়ামী লীগের ভোট চাইছে। তাদের কোনো অপরাধ নেই। কিন্তু জাতীয় পার্টি চাইলে দোসর হয়ে যাচ্ছে, এটি বৈষম্য।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।
জিএম কাদের বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর অর্ন্তবর্তী সরকার প্রধান বললেন, তাদের নিয়োগকর্তা ছাত্র-সমন্বয়করা। আর সরকার ছাত্র সমন্বয়কদের দল এনসিপির অভিভাবক। পরবর্তীতে জামায়াত বললো ছাত্র-সমন্বয়করা তাদের। এ বক্তব্যের পর কেউ জামায়াতের এই কথার বিরোধিতা করলো না, মেনে নিলো। তাহলে এখন জামায়াত-এনসিপি ও অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার মিলে দেশ চালাচ্ছে। তাদের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে।
তিনি বলেন, অটোমেটিক নির্বাচন ব্যবস্থার কোনো ধরনের নিরপেক্ষতা থাকছে না। সরকার ও তাদের অভিভাবকদের কাছে নিরপেক্ষতা আশা করা যায় না। আমাদের বাধা দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের দোসর বলে। তবে আমরা সেই বাধাকে উপেক্ষা করে রাজনীতি করছি। প্রয়োজনে রক্ত দেবো, তারপরেও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাব।
তিনি আরও বলেন, দেশে একটি ভোট হচ্ছে। যেখানে জনগণ ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিতে পারবে কিংবা ‘না’-তে। এখন সরকারের কথামতো ভোট না দিলে তাদের লাথি মারা হবে। এটি কোনো নিরপেক্ষ ভোট হলো। গণভোটে যারা ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দেবেন না তারা বলা হচ্ছে স্বৈরাচারের দোসর, আমি বলবো গণভোটে যারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বলেছে তারা নাৎসিবাদের দোসর।
জিএম কাদের বলেন, এই সরকার দেশের সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে ক্ষমতায় বসেছে। এখন নির্বাচনের পর সরকার সংসদের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। পরবর্তীতে প্রয়োজন মতে তারা গণভোটে যাবে। তখন জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংস্কার পাস হবে। কিন্তু এখন আগে থেকে কেন ‘হ্যাঁ’ এর কথা বলা হচ্ছে। সরকার মানুষকে গণভোট নিয়ে ঠিকমতো বোঝাচ্ছে না। গণভোট যেহেতু সংবিধান সম্মত না, তাই গণভোট বেআইনি ও অবৈধ। যে সরকারি কর্মকর্তাদের এ কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেটি অবৈধ ও বেআইনি। গণভোটে যে টাকা খরচ করা হচ্ছে তা অবৈধ ও বেআইনি।
তিনি আরও বলেন, গণভোট ‘না’ এর পক্ষে থাকলে তাদের বলা হচ্ছে স্বৈরাচারের দোসর। আর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে দেশ বেহেস্ত হয়ে যাবে। এসব ধাপ্পাবাজির কারণে গণভোটে সবাই ‘না’ ভোট দেবে। সরকার যেভাবে গণভোটে ইনভেস্ট করছে, প্রভাব বিস্তার করছে, জোর করে দখল করার চেষ্টা করছে, হুমকি দিচ্ছে, সরকারি টাকা ব্যবহার করছে, সেই ভোটের ফলাফল আমরা মেনে নিতে পারবো না। কারচুপি করে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী করে তারা বিপ্লবী সরকার গঠন করতে চায়। সেই সরকার ইচ্ছেমতো দেশ পরিচালনা করবে, যেখানে সংসদ সদস্যের কোন ভূমিকা থাকবে না।











