কারাবন্দীদের প্রাপ্য নূন্যতম অধিকার না দেওয়ায় ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের বিরুদ্ধে ৩দিনের অনশন শুরু করতে যাচ্ছে ১৫ ফিলিস্তিনি বন্দী।
বুধবার (২৪ মে) ফিলিস্তিনি বন্দীদের অধিকার রক্ষা বিষয়ক একটি সংগঠন সংবাদমাধ্যমকে একথা জানায়।
বলা হয়, রামাল্লার ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের কারাগার ক্লিনিকের অসুস্থ ১৫ জন ফিলিস্তিনি বন্দী আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ মে) থেকে ৩ দিনের জন্য অনশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নির্যাতন ও জঘন্য আচরণের মাধ্যমে কারাবন্দীদের শারীরিকভাবে দুর্বল ও অসুস্থ বানিয়ে দেওয়া, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে অনীহা ও কারাবন্দীদের মৌলিক চাহিদা পূরণ না করার মতো আরো অন্যান্য মারাত্মক অভিযোগে অনশনে যেতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
অসুস্থ কারাবন্দী ফিলিস্তিনি ভাইদের দিকে লক্ষ্য করে এসব বন্দীরা শারীরিক ভাবে অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও অনশনের মতো কঠিন পদক্ষেপ নিতে সাহস করেছেন বলে জানা যায়।
এছাড়া তারা কারাবন্দীদের খাবারের মান উন্নয়ন,খাবারের পরিমাণ বাড়ানো, অসুস্থদের দ্রুত চিকিৎসা সহ আরো অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবী জানান।
দীর্ঘদিন যাবত ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করা ক্যান্সার আক্রান্ত ফিলিস্তিনি বন্দী ওয়ালিদ দিক্কা এবং আসিফ আল রেফায়ী সহ আরো অন্যান্য অসুস্থ ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ারও দাবী জানান অনশন শুরু করতে যাওয়া এসব অসুস্থ কারাবন্দীরা।
উল্লেখ্য; ইহুদিবাদীদের বিরুদ্ধে অনশনের ক্ষেত্রে খিজির আদনান এক আলোচিত নাম। সর্বশেষ গত ৫ ফেব্রুয়ারি বেআইনী ভাবে গ্রেফতারের পর থেকে শাহাদাতের আগ পর্যন্ত ইহুদিবাদীদের কারাগারে তিনি লাগাতার ৮৬ দিন অনশন করেছিলেন।
তার অনশন ফিলিস্তিনজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলো। বিশ্বের অনেক দেশেও তার অনশনের খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছুটা চাপে পড়ে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীরা। পরে অবস্থা বেগতিক হতে থাকায় কারাগারে ইচ্ছাকৃত ভাবে তাকে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠে। এতে করে ফিলিস্তিনের পরিবেশ আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠে। ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্রটির উপর মুসলিম বিশ্বের নেতাদের পক্ষ থেকে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়।
জানা যায়, ৪৫ বছর বয়সী খিজির আদনান ৯ সন্তানের জনক ছিলেন। ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল কর্তৃক দখলকৃত ফিলিস্তিনের জেনিন শহরের ছিলো তার বসবাস।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে মোট ১৩ বার গ্রেফতার হতে হয়েছে। ১৩ দফায় মোট ৮ বছর জেল খেটেছিলেন তিনি। এরমধ্যে আবার ৫ বার অনশনও করেন তিনি।
তার ১ম অনশনটি ছিলো ২৫ দিনের, ২য়টি ৬৭ দিনের, ৩য়টি ৫৮ দিনের। আর ২০১৮ সালে যখন ৪র্থ বারের মতো অনশন শুরু করেছিলেন তা দীর্ঘ হয়েছিলো ৫৪ দিন পর্যন্ত। আর ২০২১ সালে ৫ম বারের মতো শুরু করলে তা স্থায়ী হয় ২৫ দিন পর্যন্ত।
সূত্র: ডেইলি সাবাহ এরাবিক











