spot_img
spot_img

ইসরাইল শান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা: এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেছেন, এই অঞ্চলে আরও সংবেদনশীল একটি পর্যায় শুরু হয়েছে। ইসরাইল শান্তির সামান্যতম সম্ভাবনারও বিরোধিতা করছে।

বুধবার (২৪ জুন) তুরস্কের পার্লামেন্টে নিজের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা একে পার্টির সংসদীয় দলের বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এরদোগান বলেন, “আমরা জানি, ইসরাইল শান্তির সামান্যতম সম্ভাবনাও সহ্য করতে পারে না।”

এই অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, গত ১০ দিনে ইসরাইলি রাজনীতিবিদদের দেওয়া বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, যুক্তিবোধ দ্বারা পরিচালিত কোনো রাষ্ট্র নয়, বরং আমাদের সামনে রয়েছে নিয়ন্ত্রণ হারানো একদল উগ্রপন্থী।

তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, সবাই একে অপরের বিরুদ্ধে কম মানুষ হত্যা করা এবং কম রক্ত ঝরানোর অভিযোগ করছে।”

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরাইলের কিছু গোষ্ঠী এই অঞ্চলে অস্ত্রের গর্জন থেমে যাক, তা চায় না। তারা ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্প্রতি হওয়া একটি সমঝোতা নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে।

ইসরাইলকে হত্যাযজ্ঞের নেটওয়ার্ক আখ্যা দিয়ে এরদোগান বলেন, তারা সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বকে রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত করেছে। গত ১০ দিনে সব পক্ষের প্রচেষ্টায় যে কষ্টার্জিত ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তা নস্যাৎ করতে ইসরাইল সবকিছু করেছে।

তিনি বলেন, যারা এর জন্য দায়ী, তারা নিজেদের লক্ষ্য অর্জন না করা পর্যন্ত এ ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

এরদোগান বলেন, “আমাদের অঞ্চলে যদি শান্তি আসে, তবে তা ইসরাইল সত্ত্বেও আসবে। আমাদের অঞ্চলে যদি শান্ত পরিবেশ তৈরি হয়, তবে তা ইসরাইলের উসকানি সত্ত্বেও হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই হত্যাযজ্ঞের নেটওয়ার্ক যা-ই করুক না কেন, তারা আমাদের অঞ্চলে শান্তি, ন্যায়বিচার, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জয় ঠেকাতে পারবে না।”

তুরস্ক শান্তির যেকোনো সুযোগ কাজে লাগাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিয়ে যাবে বলেও জানান এরদোগান।

তিনি বলেন, “তুরস্কের পক্ষ থেকে আমরা শান্তির ক্ষুদ্রতম সম্ভাবনাও কাজে লাগানো নিশ্চিত করতে আমাদের ওপর যে দায়িত্ব আসে, তা পালন করা থেকে বিরত থাকব না।”

আগামী দিনগুলোতে ইরানকে ঘিরে চলমান সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আঙ্কারা প্রচেষ্টা সমর্থন করে যাবে বলেও জানান তিনি।

আমেরিকা ও ইরান ১৮ জুন একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এরপর আমেরিকা ও ইসরাইল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তা শেষ করার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় রবিবার সুইজারল্যান্ডে আলোচনা শুরু হয়।

আমেরিকা-ইরান সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে লড়াই বন্ধের কথা বলা হলেও ইসরাইল লেবাননে তার হামলা অব্যাহত রেখেছে।

সূত্র: আনাদোলু

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ