spot_img
spot_img

‘চীনের কারণে জাতিসংঘের সদস্য লাভ করতে ’৭৪ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে করতে হয়েছে’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, কয়েকটি দেশের ভেটোর কারণে ৭২ সালে জাতিসংঘ আমাদের সদস্যপদ দিতে পারেনি। যেহেতু পরাশক্তির এখানে বিশেষ ক্ষমতা আছে, তারা যদি ভেটো দেয়, জাতিসংঘের এখানে কিছু করার থাকে না। সেদিন এই চীন বারবার আমাদের আবেদনের বিরুদ্ধে ভেটো দেওয়ার কারণে ৭৪ সাল পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

রোববার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন হলে ৭৬তম জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ পোয়েটস ক্লাব আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী বলেন, আমাদের স্বাধীনতার সময় জাতিসংঘের প্রথম দিকের ভূমিকাকে আমরা যেমন প্রশংসা করতে পারি না, কিন্তু কিছুদিন পর যখন গণহত্যা প্রকট আকার ধারণ করলো, তখন জাতিসংঘ এগিয়ে এসেছিল। যদিও তা স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে নয়, পূর্ব পাকিস্তানের স্মরণার্থী এই ক্যাপশনে তারা এসেছিল, অনেক সাহায্যও করেছিল। তখন যদি জাতিসংঘ এগিয়ে না আসতো, তাহলে অনেক মানুষ না খেয়ে মারা যেতো। বিভিন্ন দেশের ওপর জাতিসংঘের কর্তৃত্ব নেই, তবে তার যতটুকু ক্ষমতা আছে, সেই ক্ষমতা সে প্রয়োগ করে বলেছিল শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য। দেশে তখন যে সমস্যা চলছে, তার শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের জন্য জাতিসংঘ সেদিন চেষ্টা করেছিল। এরপর যখন যুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে, তখন জাতিসংঘ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতিসংঘের অনেক ব্যর্থতা ও সফলতা আছে। ব্যর্থতার কথা যদি বলতে চাই, কোনো সিদ্ধান্ত জনসম্পৃক্ততা হলেও সেখানে অনেক পরাশক্তি দেশ রয়েছে, যাদের জন্য জাতিসংঘ অনেক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। যেহেতু জাতিসংঘের নিজস্ব কোন বাহিনী নেই, তারা সারা বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের পয়সায় চলে, তাদের নিজস্ব এমন কোনো শক্তি নাই যে, কোনো পরাশক্তির অপসিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনানুগভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তারা সর্বোচ্চ পরামর্শ দিতে পারে এবং মানার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ ও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। সেই দিক থেকে বিবেচনা করলে জাতিসংঘ একটি সফল বিশ্ব সংস্থা। তারা বিভিন্ন কাজে তাদের সফলতা দেখিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী কূটনৈতিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অচিরেই এটা বাস্তবায়ন হবে বলে আমরা আশাবাদী।

তিনি বলেন, ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আমাদের সরকার কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। মাত্র ৯ মাসে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যার মতো ঘটনা আর ঘটেনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এতো লোক মারা গেছে। কিন্তু এতো অল্প সময়ে এতো লোক কোথাও মারা যায়নি। তাই ২৫ মার্চ বাংলাদেশে যে গণহত্যা হয়েছিল, তাকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের প্রতি অনুরোধ রাখছি।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ