ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন এবং আমেরিকার সম্ভাব্য হামলার হুমকির মধ্যে ইরানকে “মৃত্যু পর্যন্ত” রক্ষা করার অঙ্গীকার করেছেন।
ইরানি স্থলবাহিনীর কমান্ডার আলি জাহানশাহী বলেছেন, বাইরের হুমকি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনীর ভেতরে ঐক্যই সবচেয়ে জরুরি। ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাহানশাহী বলেন, “সংকটকালে শত্রুকে ব্যর্থ করে দেওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো সশস্ত্র বাহিনীর ঐক্য। সশস্ত্র বাহিনীকে এক দেহের মতো কাজ করতে হবে, যাতে শত্রু তাদের মোকাবিলায় নিজেকে অসহায় মনে করে।”
তিনি আরও বলেন, ইরানকে রক্ষায় ইরানি সেনাবাহিনীর স্থলবাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর স্থলবাহিনীর পাশে থাকবে। দেশের ভূখণ্ড সুরক্ষায় কোনো ত্যাগই বাদ দেওয়া হবে না বলেও তিনি জোর দেন।
আলাদা বক্তব্যে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর স্থলবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কারামি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে ঐক্য ইতোমধ্যেই শত্রুপক্ষের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে।
কারামি বলেন, “সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয় একটি মূল্যবান সম্পদ, যা গুরুত্বের সঙ্গে বজায় রাখতে হবে এবং আরও শক্তিশালী করতে হবে।”
এদিকে শুক্রবার ইসরাইলের চ্যানেল-টুয়েলভ জানিয়েছে, ইসরাইলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে ইরান আগাম হামলা চালাতে পারে। একই সঙ্গে উদ্বেগ রয়েছে, তেহরান নিজেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকা অঞ্চলটিতে তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করে চলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে আমেরিকা ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর চাপ তীব্র হয়েছে। ওই সময় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জীবনযাত্রার অবস্থার অবনতির কারণে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
তেহরান অভিযোগ করেছে, ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক চাপ এবং অস্থিরতা ব্যবহার করে সামরিক হস্তক্ষেপ ও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য একটি অজুহাত তৈরি করতে চায়।
সূত্র : আনাদুলো











