spot_img
spot_img

কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের হামলায় ৮ হাজার আফগান পরিবার বাস্তুচ্যুত

ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশে কথিত ডুরান্ড লাইনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গোলাবর্ষণে শত শত ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ৮ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তোলো নিউজ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, টানা গোলাবর্ষণ ও বোমাবর্ষণের কারণে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না।

কুনারের বাসিন্দা ইকরারউদ্দিন মালাংজাই বলেন, “যখন আমরা শহীদদের মরদেহ বা আহতদের আনতে এবং দাফনের জন্য ঘর থেকে বের হই, তখন পাকিস্তানি বাহিনী আমাদের ওপর গুলি চালায়। আমরা নাড়ি থেকে বারিকোটে দাফনের জন্য কয়েকটি মরদেহ নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু কবরস্থানে পৌঁছানোর পরও তারা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।”

আরেক বাসিন্দা জাকিরুল্লাহ বলেন, “এর আগেও গুলিবর্ষণ হয়েছে। আমার চাচার বাড়িতে আঘাত লেগেছে, পাশের আরেক আত্মীয়ের বাড়িও ধ্বংস হয়েছে। পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ, একটির পর একটি গোলা এসে পড়ছিল।”

নাড়ি জেলার বাসিন্দা ইরফানুল্লাহ নিজের বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন, যে বাড়িটি একসময় পরিবারের হাসিতে মুখর ছিল, তা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, সেই মুহূর্তটি এখনও তার স্পষ্ট মনে আছে, যখন তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, ঠিক তখনই পাকিস্তানি বাহিনীর ছোড়া একটি গোলা তাদের বাড়ির মাঝখানে এসে আঘাত হানে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শান্ত পরিবেশ ভয় ও ধ্বংসের দৃশ্যে রূপ নেয়।

ইরফানুল্লাহ নামে আরকেজন বলেন, “গোলাটি আঘাত হানার তিন মিনিট আগে আমার চাচা আমাকে ফোন করে নিচে নিয়ে যান। এরপরই গোলাটি আমাদের বাড়িতে আঘাত করে। পুরো বাড়িটি ধ্বংস হয়ে যায়। একটি কক্ষ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়, আর জানালা ও বাড়ির অন্যান্য অংশ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।”

এদিকে, কুনারের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, পাকিস্তানি গোলাবর্ষণের কারণে হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় এখনও থেমে থেমে গোলাবর্ষণ চলছে।

তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় এবং তাদের প্রয়োজন মেটাতে বিভিন্ন সহায়তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

কুনারের দুর্যোগ প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া বিভাগের প্রধান সাবেতুল্লাহ সিদ্দিকি বলেন, “প্রায় ৬০০টি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ৮ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের অনেকেই এখন নদীর তীর ও পাহাড়ের ঢালে আশ্রয় নিয়েছেন।”

কুনার তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় পাকিস্তানি বাহিনী নাড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৭টি গোলা এবং মানুরা এলাকায় আরও ৭টি গোলা নিক্ষেপ করেছে।

কর্মকর্তারা জানান, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে বেসামরিক মানুষের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তির ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

সূত্র: তোলো নিউজ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ