spot_img
spot_img

বিতর্কের মুখে ট্রাম্পের নাগরিক তালিকা উদ্যোগ, আদালতে মামলা

অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়া বন্ধ করার যুক্তি দেখিয়ে আমেরিকার প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের জন্য পৃথক ‘নাগরিক তালিকা’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনই এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে না পারায় এবং অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ঘটনা কার্যত অস্তিত্বহীন হওয়ায় এই পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।

গত মার্চ মাসে একটি নির্বাহী আদেশে সই করার আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি এটি নির্বাচনে অনেক সাহায্য করবে।’

ওই আদেশে ভোটারদের যোগ্যতা নির্ধারণে সহায়তার জন্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের নাগরিকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগেও ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসন আদমশুমারিতে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রশ্ন যুক্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল।

ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্য এবং ভোটাধিকার রক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো আদালতে মামলা করেছে।

ওয়াশিংটনের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে চলমান এই মামলার শুনানিতে আমেরিকার বিচার বিভাগ নিজেই স্বীকার করেছে, ভোটার যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই ধরনের তালিকা সম্ভবত ‘অনির্ভরযোগ্য’ হতে পারে।

প্রতিবেদনটিতে ট্রাম্পের এই প্রস্তাবের ব্যবহারিক, আইনি ও ঐতিহাসিক কিছু জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে।

অসম্পূর্ণ তালিকার ঝুঁকি

অন্যান্য দেশের মতো আমেরিকায় কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র বা একক কোনো নথি নেই, যা দিয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণ করা যায়। আমেরিকার মাত্র ৫৪ শতাংশ মানুষের পাসপোর্ট রয়েছে।

সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড অ-নাগরিকদেরও থাকতে পারে। অন্যদিকে, যারা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের কাছে জন্মসূত্রে পাওয়া আমেরিকার জন্মসনদ থাকে না।

ন্যাশনাল আর্কাইভসের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাচারালাইজেশন রেকর্ডের কোনো কেন্দ্রীয় সূচকও নেই।

ট্রাম্পের আদেশ অনুযায়ী, সোশ্যাল সিকিউরিটি রেকর্ড এবং অন্যান্য ফেডারেল ডাটাবেজ মিলিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হবে।

কিন্তু শুনানিতে মামলাকারীরা যুক্তি দিয়েছেন, সরকার যে তালিকাই তৈরি করুক না কেন, তা তাৎক্ষণিকভাবেই পুরোনো বা আউট অব ডেট হয়ে যাবে।

এমনকি প্রশাসনের এক আইনজীবীও স্বীকার করেছেন, ‘কোনো তালিকাই কখনো নিখুঁত হতে পারে না।’

আইন লঙ্ঘনের শঙ্কা

১৯৭৪ সালের ‘প্রাইভেসি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির লিখিত সম্মতি ছাড়া এক সংস্থা অন্য সংস্থার সঙ্গে কোনো তথ্য শেয়ার করতে পারে না। যদিও দেওয়ানি বা ফৌজদারি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে।

তবে আইনজীবীদের দাবি, এই গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন না করে এমন তালিকা তৈরি করা অসম্ভব।

বিচারক কার্ল জে. নিকোলস জানিয়েছেন, আইন লঙ্ঘন হবে কি না, তা বলার সময় এখনো আসেনি।

অন্যদিকে, বিচার বিভাগের আইনজীবীরা এখনো স্পষ্ট করতে পারেননি, কীভাবে এই তালিকা তৈরি করা হবে।

অধিকার হরণের আশঙ্কা

১৮ শতক থেকে আমেরিকা নাগরিকত্ব প্রত্যয়নের বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করলেও দেশে কখনো কোনো কেন্দ্রীয় নাগরিকত্ব রেজিস্ট্রি বা তালিকা ছিল না।

লিবের্টারিয়ান থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ক্যাটো ইনস্টিটিউটের ইমিগ্রেশন স্টাডিজ ডিরেক্টর ডেভিড জে. বিয়ার বলেন, একটি ত্রুটিপূর্ণ ডাটাবেজ ব্যবহার করা হলে নাগরিক এবং অ-নাগরিক, উভয়েরই অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে।

তিনি এটিকে অধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

উল্লেখ্য, এই নাগরিক তালিকা তৈরির উদ্যোগের পাশাপাশি আমেরিকার নাগরিকত্বের মূল কাঠামোর ওপর আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার দীর্ঘদিনের নিয়ম সংশোধনের চেষ্টা করেছিলেন, যা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।

এছাড়া তার প্রশাসন ইতোমধ্যেই শত শত ন্যাচারালাইজড আমেরিকানের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ