spot_img
spot_img

কিউবায় রাশিয়া-চীনের গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ আমেরিকার

কিউবায় রাশিয়া ও চীনের গোয়েন্দা কার্যক্রম সম্প্রসারিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আমেরিকার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। এর ফলে মার্কিন ভূখণ্ডের কাছাকাছি বিদেশি নজরদারি কার্যক্রম নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে প্রকাশিত আমেরিকার গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বেইজিং ও মস্কো কিউবায় তাদের ইলেকট্রনিক নজরদারি সুবিধা উন্নত করেছে এবং ২০২৩ সাল থেকে সেখানে গোয়েন্দা কর্মীর সংখ্যা বাড়িয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব স্থাপনা এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে, যাতে আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর মধ্যে টাম্পায় অবস্থিত ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যুক্ত যোগাযোগ এবং মায়ামির কাছে থাকা ইউএস সাউদার্ন কমান্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত যোগাযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই মূল্যায়নে কিউবায় ১৮টি পরিচিত সংকেত-গোয়েন্দা স্থাপনা শনাক্ত করা হয়েছে।

আমেরিকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চীন তিনটি স্থাপনা পরিচালনা করছে, আর রাশিয়া পরিচালনা করছে দুটি। কিছু স্থাপনা কিউবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে ধারণা করা হয়। বাকি স্থাপনাগুলো কিউবার মালিকানাধীন বলে জানা গেছে।

ওয়াশিংটন এই ঘটনাগুলোকে আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের উপস্থিতি শক্তিশালী করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছে।

ট্রাম্প প্রশাসন এই গোয়েন্দা তথ্যগুলোকে হাভানার প্রতি আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণের যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করেছে।

তাদের মতে, কিউবা এখন আমেরিকার মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি রাশিয়া ও চীনের কার্যক্রম পরিচালনার একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

কিউবার গোয়েন্দা কার্যক্রমও দ্বীপটির দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত আমেরিকার নৌঘাঁটি গুয়ানতানামো বে-এর আশপাশে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আমেরিকার সদ্য সাবেক জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ডের নির্দেশনার পর কিউবার ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে আমেরিকা। এর মধ্যে ড্রোন উড্ডয়ন ও স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে তার দপ্তর এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

চীন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে কিউবার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে মিথ্যা দাবি ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছে বেইজিং।

রাশিয়া এ প্রতিবেদন নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে মস্কো প্রকাশ্যে হাভানার বিরুদ্ধে আমেরিকার পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে এবং কিউবার প্রতি অব্যাহত সমর্থনের অঙ্গীকার করেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ