ইসরাইল মুসলিমদের প্রথম কিবলা পবিত্র বাইতুল মোকাদ্দাসে কথিত ‘থার্ড টেম্পল’ নির্মাণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছে বলে সতর্ক করেছে ফিলিস্তিন ইসলামিক ফতোয়া কাউন্সিল। বৃহস্পতিবার ফতোয়া কাউন্সিল এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, অত্যন্ত বিপজ্জনক সময়ের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে রহমতের চাদরে আবৃত মসজিদে আকসা। এটা শুধু এজন্য নয় যে, ইসরাইলীরা এর দখল নিতে সুবিধাজনক অবস্থায় পৌঁছেছে বরং কথিত কাঙ্ক্ষিত ‘থার্ড টেম্পল’ নির্মাণ কাজ ধারাবাহিক ভাবে শুরুরও দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে তারা।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, পবিত্র মসজিদে আকসার স্থানে ‘থার্ড টেম্পল’ নির্মাণে ইসরাইল কর্তৃক তাণ্ডব ও ষড়যন্ত্র এর স্বত্বাধিকার, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে না। কারণ এটি পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য ওয়াকফ। পৃথিবীর সকল মুসলিমের উপর ফরয একে রক্ষা করা। বাইতুল মোকাদ্দাস রক্ষায় সকলকে তাদের সর্বশক্তি দিয়ে ঝাপিয়ে পড়তে হবে।
এছাড়া ফিলিস্তিনের বর্তমান গ্র্যান্ড মুফতি ও ফতোয়া কাউন্সিলের প্রধান শায়েখ মুহাম্মদ হুসাইন পবিত্র কুদসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাকস্বাধীনতাকে ঢাল বানিয়ে অনবরত ইসলাম বিদ্বেষ, পবিত্র কুরআন পোড়ানো ও ইসলামী নিদর্শনগুলোর প্রতি ঘৃণা ছড়ানোর বিষয়ে নিন্দা জানিয়েছেন।
শায়েখ মুহাম্মদ হুসাইন বলেন, আকসার পবিত্র স্থানগুলোতে ইসরাইলী বাহিনীর তাণ্ডব ও পবিত্র কুরআন পোড়ানোর মতো জঘন্য অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কারণ এসব সন্ত্রাস ও বর্ণবাদী কর্মকাণ্ড, যা মানুষের মাঝে ঘৃণা ও সহিংসতাকে উস্কে দেয়। এমন ধর্মীয় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয় যা বন্ধ হওয়ার নয়।
ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, কৃষি ও গাছপালা ধ্বংস, জায়গা-জমি ও পানির উৎস সমূহ দখল এবং লুটপাটের জন্যেও ইসরাইলের নিন্দা জানান তিনি। এসব কর্মকাণ্ডকে অবৈধ রাষ্ট্রটির জাতিবিদ্বেষ ও জাতি-গোষ্ঠী নির্মূলের ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
‘থার্ড টেম্পল’ কী?
‘থার্ড টেম্পল’ হলো কথিত ইহুদি ধর্মবিশ্বাস। তারা মনে করে থাকে, যতদিন পবিত্র মসজিদে আকসার স্থানে ‘থার্ড টেম্পল’ নির্মাণ না করা হবে ততদিন পৃথিবীতে তাদের মাসিহ বা ত্রাণকর্তা দাজ্জালের আগমন ঘটবে না। কথিত ‘থার্ড টেম্পল’ নির্মাণের জন্য তাদের ধর্মবিশ্বাস মতে নিজেদের পবিত্র করতে ২০২২ সালে আমেরিকার টেক্সাস থেকে ৩টি লাল গো-বাছুরও সংগ্রহ করে।
কেননা তাদের ধর্মবিশ্বাস মতে, অপবিত্র ইহুদিরা নিজেদের পবিত্র করা ব্যতীত থার্ড টেম্পল নির্মাণ ও এতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর পবিত্র হতে হলে লাল গাভী পুড়িয়ে প্রথমে মাসিহের জন্য উৎসর্গ করতে হবে। এরপর সেই ছাই নীল নদেড় নদীর পানিতে মিশিয়ে একমাত্র তা দিয়েই নিজেদের পবিত্র করতে পারবে।
তাদের কথিত ধর্ম বিশ্বাসে এও বলা আছে যে, লাল গাভী এমন হতে হবে যে, তা দিয়ে কখনো চাষাবাদ বা অন্য কোনো কাজ করা হয়নি। মাঝারি বয়সের হতে হবে। ঘাড়ের পশম হতে হবে খাড়া। প্রতিটি পশমই লাল হতে হবে।
সূত্র: ওয়াফা নিউজ











