বুধবার | ১৮ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

পুলিশের চাকরিতে দাড়ি রাখার ওপর বিধিনিষেধ বাতিলের দাবি সাধারণ আলেম সমাজের

বাংলাদেশের প্রশাসনের বিভিন্ন বাহিনীতে দাড়ি রাখার ওপর অযৌক্তিক বিধিনিষেধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ‍অবিলম্বে এসব অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা, শর্ত ও অনুমতিনির্ভর নিয়ম বাতিলের দাবি জানিয়েছে সাধারণ আলেম সমাজ।

আজ সোমবার (২৫ আগস্ট) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

দাঁড়ি রাখায় প্রশাসনিক বিধিনিষেধ সংবিধান ও শরিয়াহ’র ওপর রাষ্ট্রীয় আঘাত মন্তব্য করে বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, বাংলাদেশের প্রশাসনের বিভিন্ন বাহিনীতে দাড়ি রাখার ওপর অযৌক্তিক বিধিনিষেধ জারি আছে। বাস্তবে জুনিয়র সদস্যদের দাড়ি রাখাই নিষিদ্ধ; সিনিয়ররাও চাইলে রাখতে পারেন না। বরং বিশেষ অনুমতির শর্ত পূরণ করতে হয়। এমনকি দাড়ি রাখার কারণে লঘুদণ্ড, বিভাগীয় শাস্তি কিংবা বদলির মতো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অথচ দাড়ি রাখা কোনো অপরাধ নয়, বরং এটি ইসলামের সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাত ও মুসলিম পরিচয়ের প্রতীক।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রে একজন মুসলমানকে দাড়ি রাখতে হলে অনুমতি নিতে হবে, এমন বিধান শুধু ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থীই নয়, এটি সরাসরি সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে প্রতিশ্রুত ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিশ্বাসমত জীবনযাপনের অধিকারের বরখেলাপ। সংবিধানের ২৮ (৩), ৩২ ও ৪১ অনুচ্ছেদের বিরুদ্ধে এটি একটি কাঠামোগত রাষ্ট্রীয় অপরাধ।”

এ বিধিনিষেধকে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে শিখরা তাদের ধর্মীয় প্রতীক পাগড়ি ও দাড়ি অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে। আমেরিকা ও ইউরোপের অনেক সেনাবাহিনীতেও ধর্মীয় প্রতীক নিয়ে নীতিমালা শিথিল করা হয়েছে। তাহলে বাংলাদেশের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে মুসলিমরা কেন তাদের ধর্মীয় প্রতীক দাড়ি রাখতে গেলে অনুমতির শর্তের শিকার হবে? এটি শুধু বৈষম্যমূলকই নয়, বরং মুসলিম পরিচয় ও আত্মমর্যাদার ওপর এক ঘৃণ্য আঘাত।”

বিবৃতিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে চারদফা দাবি জানানো হয়।

দাবিগুলো হলো:
১. প্রশাসন ও পুলিশের চাকরিতে দাড়ি রাখার সব ধরনের শর্ত, নিষেধাজ্ঞা ও অনুমতিনির্ভর নিয়ম অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
২. ইতোমধ্যে দাড়ির কারণে যে সদস্যরা শাস্তি বা হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাদের ক্ষতিপূরণ ও মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে।
৩. প্রশাসনিক নীতিমালায় ইসলামি অনুশাসনের প্রতি পূর্ণ সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।
৪. নাগরিকদের ধর্মীয় প্রতীকের স্বাধীনতা রক্ষায় একটি স্থায়ী ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা সুরক্ষা নীতিমালা’ প্রণয়ন করতে হবে।

সরকার ও প্রশাসনকে সতর্ক করে সাধারণ আলেম সমাজের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, “একটি রাষ্ট্র তার নাগরিকদের মৌলিক ধর্মীয় পরিচয় ও প্রতীকের স্বাধীনতা অস্বীকার করলে সেই রাষ্ট্রের নৈতিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আমরা রাষ্ট্র, সরকার ও প্রশাসনকে সতর্ক করছি, মুসলিমের দাড়ি রাখা অনুমতিনির্ভর কোনো বিষয় নয়; এটি তার ঈমানি অধিকার। এ অধিকারকে নিষিদ্ধ বা সীমিত করার প্রতিটি প্রয়াসই সংবিধান, শরিয়াহ ও মানবাধিকারের বিরুদ্ধে একটি ফ্যাসিবাদী আচরণ। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।”

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ