কেবল নিজেদের সিংহাসন টিকিয়ে রাখার জন্য যতটুকু ন্যায্য, বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের ততটুকুকে হালাল ও জায়েজ বলছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
তিনি বলেন, বিএনপির এই প্রতারণা শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদের শাসনের বৈধতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সংবিধান মেনে করা হয়নি, বরং সংবিধান খেলাপ করেই হয়েছে। ৫ আগস্টের পর যে সরকার গঠিত হয়েছে, তা গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট নিয়ে হয়েছে। ১০৬ অনুচ্ছেদের সাংবিধানিক প্রতারণা মেনে এই সরকার গঠিত হয়নি।
সভায় জুলাই সনদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর বিএনপির অনেক বুদ্ধিজীবী হয়েছেন, যাদের আগে তারা চিনতেন না। তারা মূলত দুটি যুক্তি তুলে ধরার চেষ্টা করেন। প্রথমত, তারা বলেন, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হরফে হরফে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তারা বলেন, গণভোটের ভাষা অনেক কঠিন, যা সাধারণ মানুষ বোঝে না।
তিনি আরও বলেন, এ দুটি যুক্তির মধ্যেই একটি জালিয়াতি লুকিয়ে আছে। সরকারি দলের এই রাজনৈতিক প্রতারণা জাতির কাছে পরিষ্কার করে দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও বিপ্লব, কোনোটিই সংবিধানের ধারা-উপধারা মেনে হয় না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানও সংবিধান খেলাপ করেই করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর গঠিত সরকার পুরোপুরি গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পরিকল্পিতভাবে পুরো বিতর্কটিকে সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দিন শেষে বিপ্লবের বৈধতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, সরকার যে দ্বিচারিতার রাজনীতি করছে, বুঝে হোক বা না বুঝে, তার মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, শপথ ও সরকার গঠন অবৈধ হয়ে যায়, যা আবার বিএনপি মেনে নিতে নারাজ।











