ভারতের আহমেদাবাদে বিশেষ সন্ত্রাস দমন আইন পোটা আদালত ২০০২ সালের অক্ষরধাম মন্দিরে হামলার ঘটনায় দায়ের মামলায় তিন মুসলিমকে খালাস দিয়েছেন। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন আবদুল রশিদ সুলেমান আজমেরি, মুহাম্মদ ফারুক মুহাম্মদ হাফেজ শেখ এবং মুহাম্মদ ইয়াসিন ওরফে ইয়াসিন ভাট। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত সপ্তাহে দেওয়া এই রায় তাদের পরিবারের জন্য স্বস্তি ও ন্যায়বিচারের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট আগে যে উপাদান প্রত্যাখ্যান করেছে, তার বাইরে নতুন করে বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই। রায়ে সর্বোচ্চ আদালতের ২০১৪ সালের সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করা হয়, যেখানে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব এবং সুষ্ঠু তদন্ত না থাকার কারণে মূল অভিযুক্তদের খালাস দেওয়া হয়েছিল। এরপর নতুন কোনো তথ্যপ্রমাণ সামনে না আসায় আদালত তিনজনকে তাৎক্ষণিক মুক্তির নির্দেশ দেন।
রায়ে আরও বলা হয়, আজমেরি ও হাফেজ শেখ আহমেদাবাদের বাসিন্দা। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০০২ সালের হামলার সময় তারা সৌদি আরবে ছিলেন, পরে তাদের ‘পলাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তারা ২০১৯ সালে দেশে ফেরার পর ক্রাইম ব্রাঞ্চ তাদের গ্রেপ্তার করে। একই মামলায় ইয়াসিনের বিরুদ্ধেও অনুরূপ অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এই খালাসের আগে মামলার আরও কয়েকজনও স্বস্তি পেয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট আদম সুলেমান আজমেরি এবং সালিম হানিফ শেখকে খালাস দেন। মুক্তির পর জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ তাদের আইনি সহায়তা দেয় এবং বাকি তিনজনের ক্ষেত্রেও মামলা চালিয়ে যায়।
জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রধান মাওলানা আরশাদ মাদানী রায়কে ন্যায়বিচারের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আদালত সুপ্রিম কোর্টের নজির অনুসরণ করেছে। পাশাপাশি তিনি ন্যায়বিচার দিতে ছয় বছর দেরি হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, ব্যবস্থাগত ত্রুটির কারণে নির্দোষ মানুষের জীবন কারাবন্দিত্বে নষ্ট হয়। তিনি ন্যায়সঙ্গত বিচার পেতে মুসলিমদের যে সব বাধা ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়, সে নিয়েও উদ্বেগ জানান।
২০০২ সালের ওই হামলায় ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। মামলার শুরুর দিকে পোটা আইনে দেওয়া সাজা, যার মধ্যে কারও কারও মৃত্যুদণ্ডও ছিল, পরে ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে। সে সময় সর্বোচ্চ আদালত গুজরাট পুলিশের তদন্তকে ত্রুটিপূর্ণ বলে সমালোচনা করে এবং নির্দোষদের জড়িয়ে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করে।
সাম্প্রতিক এই খালাসের রায় আলোচিত সন্ত্রাস মামলাগুলোতে তদন্তের মান, ন্যায়বিচারের বিলম্ব এবং ভুলভাবে অভিযুক্তদের পাশে দাঁড়ানো সংগঠনগুলোর ভূমিকা আবারও সামনে আনল।
সূত্র : মুসলিম মিরর











