বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জর্ডানের সাথে গ্যাস সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সিরিয়া।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার জর্ডানের সাথে গ্যাস সরবরাহের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সিরিয়া। দামেস্কে সিরিয়ান পেট্রোলিয়াম কোম্পানি ও জর্ডানের ন্যাশনাল ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, চুক্তির আওতায় আম্মান দামেস্ককে দৈনিক ১৪ কোটি ঘনফুট বা ১৪০ মিলিয়ন কিউবিক ফুট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করবে।
দেশ দুটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়, এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে দামেস্ককে সহায়তা করা এবং দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট কমানো।
সিরিয়ার আল-ইখবারিয়াহ টিভি জানায়, সারা দেশে বিদ্যুৎ সেবার মান উন্নত করার লক্ষ্যে জর্ডানের কাছ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বাশির এবং জর্ডানের জ্বালানিমন্ত্রী সালেহ খারাবশেহ।
চুক্তি অনুযায়ী, জর্ডান প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সিরিয়ায় সরবরাহ করবে, যা প্রায় ১৪ কোটি ঘনফুটের সমান।
জর্ডানের জ্বালানিমন্ত্রী সালেহ খারাবশেহ বলেন, এই গ্যাস সরবরাহ সিরিয়ার বিদ্যুৎ গ্রিড স্থিতিশীল করতে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করবে।
এছাড়াও বলেন, জর্ডান ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সিরিয়ায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। জরুরি সহায়তার অংশ হিসেবে শুরুতে দৈনিক ৩ কোটি থেকে ৯ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যার লক্ষ্য সিরিয়ার জ্বালানি খাতকে সহায়তার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমানো।
সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, এই প্রকল্পটি জর্ডানের বিদ্যমান জ্বালানি অবকাঠামোর উপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে রয়েছে আকাবা বন্দরে অবস্থিত একটি ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ), যারা বৈশ্বিক বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) গ্রহণ করে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে থাকে। এবং আরব গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে সিরিয়ার ভূখণ্ড হয়ে দামেস্কে পাঠাবে।
তবে সিরিয়ার অবকাঠামো এখনো সরাসরি এধরনের গ্যাস আমদানি গ্রহণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
খারাবশেহ আরো বলেন, এই চুক্তি আঞ্চলিক জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে জর্ডানের ভূমিকা, সিরিয়াকে সহায়তা ও আরব অর্থনৈতিক সংহতি জোরদারে দেশটির অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।
অনুমোদিত পরিচালন পরিকল্পনার আওতায় সিরিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার একটি অংশ পূরণ এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষদিকে বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর সিরিয়ার নতুন প্রশাসন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে অগ্রসর হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সামাজিক সংহতি জোরদার এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করছে।











