আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা তেহরানের জন্য উদ্বেগের বিষয় বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি।
তিনি বলেন, দুই দেশের মতপার্থক্য কমানো এবং উত্তেজনা আরও বাড়তে না দিতে তেহরান সম্ভাব্য সব উপায় কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক ও উত্তেজনা তেহরানের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বৈরিতা কমানো এবং সংলাপের পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করতে ইরান বারবার নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশীদের মধ্যকার উত্তেজনা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা আমাদের সরকার ও রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে উদ্বেগের বিষয়। আমরা বারবার বলেছি, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং বৈরিতা কমাতে সহায়তার ক্ষেত্রে আমরা কোনো প্রচেষ্টা বাদ রাখব না।’
এদিকে, বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তা শুধু দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। তাদের মতে, কাবুল ও ইসলামাবাদের বিরোধ সমাধানে সংলাপ, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও রাজনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে ভালো পথ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাজিবুল্লাহ বাহাদুর বলেন, ‘ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান এবং অঞ্চল ও বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে ইতিবাচক সম্পৃক্ততা তৈরির জন্য প্রচেষ্টা চালানো উচিত। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অঞ্চলের দেশগুলোর স্থিতিশীলতা আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করে।’
সাবেক কূটনীতিক আজিজ মাআরেজ বলেন, ‘পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটি আমেরিকার মতো পশ্চিমা দেশ ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে।’
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এমন প্রেক্ষাপটে এসব মন্তব্য এসেছে। এ সময়ে পাকিস্তান বারবার আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় শত শত আফগান নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন।
সূত্র: তোলো নিউজ











