মুসলিম বিশ্ব যখন শান্তির পরিবেশ কামনা করছে, তখনও গাজ্জা থেকে পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও লেবানন পর্যন্ত দখলদারত্ব, ধ্বংসযজ্ঞ, গণহত্যা ও অবৈধ বসতি স্থাপন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। একই সঙ্গে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতিগুলোও লঙ্ঘন করছে দেশটি।
মঙ্গলবার (২৬ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় এ কথা বলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান।
বার্তায় এরদোগান তুরস্ককে সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তির সঙ্গে আরেকটি ঈদে পৌঁছানোর সুযোগ দেওয়ায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইসরাইলের উসকানিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব জ্বালানি, কৃষি, বাণিজ্য, পরিবহন, অর্থনীতি ও নিরাপত্তাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক খাতে অনুভূত হচ্ছে।
এরদোগান বলেন, অঞ্চলটি যখন একাধিক যুদ্ধ ও সংকটের মুখোমুখি, তখনও তুরস্ক স্থিতিশীলতার এক মরূদ্যান হিসেবে নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরছে।
প্রেসিডেন্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এবং আমেরিকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানি এক্সে ভিডিও আকারেও প্রচারিত বার্তায় তিনি বলেন, “আমাদের অঞ্চল যখন সংকটের সঙ্গে লড়াই করছে, তখন তুরস্ক তার অর্থনীতি, দক্ষ জনবল এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ফ্রন্টের মাধ্যমে স্থিতিশীলতার এক দ্বীপ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছে।”
এরদোগান আরও বলেন, গত ২৩ বছরে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, একে পার্টির অধীনে অনুসৃত নীতিগুলোর সুফল এখন পাচ্ছে তুরস্ক। সমালোচনা ও বাধা সত্ত্বেও, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্পে দেশটি চমকপ্রদ অগ্রগতি অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, “১.৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থনৈতিক আকার, বার্ষিক রপ্তানি ৩৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২৭৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো এবং প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতে রপ্তানি ২৪৮ মিলিয়ন ডলার থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হওয়ায় তুরস্ক বিশ্বে এক বিরল সাফল্যের গল্প লিখছে।”
এরদোগান বলেন, অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা কমে এলে তুরস্ক নতুন যুগের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে আবির্ভূত হবে।
তিনি বলেন, “এর জন্য যা প্রয়োজন, আমরা তা-ই করছি।”
তিনি আরও বলেন, চলমান “সন্ত্রাসমুক্ত তুরস্ক” উদ্যোগ তুরস্কের ভবিষ্যৎ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সুরক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর একটি।
এরদোগান এই উদ্যোগকে একটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এটি তুরস্কের ভেতরে শান্তি ও নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে দেশের সীমান্তের বাইরের সাম্রাজ্যবাদী খেলাগুলো ব্যাহত করতেও সহায়তা করছে।
তিনি বলেন, “আমরা অত্যন্ত সতর্কতা, বিবেচনাবোধ ও আন্তরিকতার সঙ্গে এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়াকে তার লক্ষ্যপানে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।”
এরদোগান আরও বলেন, “এই সন্ত্রাসী অভিশাপ থেকে আমাদের জাতিকে মুক্ত করতে আমরা সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এটি তুরস্ককে অর্থনৈতিকভাবে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে ফেলেছে। আমরা দৃঢ়তা ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছি।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ঈদ তুরস্ক, মুসলিম বিশ্ব এবং সমগ্র মানবতার জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।
পাশাপাশি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে কষ্টে থাকা মানুষের প্রতি সংহতির বার্তা পাঠান তিনি। বিশেষ করে গাজ্জা এবং তিনি যাকে “হৃদয়ের ভূগোল” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তার অন্যান্য অংশের মানুষের প্রতি সংহতি জানান এরদোগান।
তিনি বলেন, “আমাদের আধ্যাত্মিক ভূগোলের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে গাজ্জায়, যারা দুঃখ, বেদনা ও শোক নিয়ে এই ঈদকে স্বাগত জানাচ্ছেন, তাদের সব ভাই-বোনের প্রতি আমি আমার নিজের এবং আমার জাতির পক্ষ থেকে সবচেয়ে দৃঢ় সংহতির বার্তা পাঠাচ্ছি।”
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটোর











