spot_img
spot_img

কোচিং সেন্টারে জামাতে নামাজ আয়োজনের দায়ে গ্রেফতার ভারতের এক মাদরাসা শিক্ষক

ভারতের এক কোচিং সেন্টারে জামাতে নামাজ আয়োজনের দায়ে মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা শওকত আলীকে গ্রেফতার করেছে দেশটির উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকারের পুলিশ প্রশাসন।

শুক্রবার (২৩ জুন) উত্তর প্রদেশের গাজীয়াবাদে এই ঘটনা ঘটে।

গাজীয়াবাদ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, তাদের কাছে হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠনের সদস্যের পক্ষ থেকে মাওলানা শওকত আলীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ আসে।

এফআইআরে উল্লেখ করা হয়, মাওলানা শওকত আলী একটি মাদরাসার পরিচালক। তার মাদরাসাটি ফিউচার ট্র‍্যাক কোচিং ইন্সটিটিউট চত্বরে অবস্থিত। কোচিং সেন্টারে তিনি জামাতে নামাজের আয়োজন করে থাকেন।

অপরদিকে গাজীয়াবাদের খোদা পুলিশ স্টেশনের সাব ইন্সপেক্টর প্রেম সিংহ জানান যে, পেট্রোলিংয়ের সময় তিনি দীপক বিহার এলাকার ফিউচার ট্র‍্যাক কোচিং ইন্সটিটিউটে জামাতে নামাজ পড়ার দৃশ্য এবং আশপাশের হিন্দুদের এর বিরোধিতা করতে দেখেছিলেন।

তিনি আরো বলেন, কোচিং সেন্টারটিকে বর্তমানে মাদরাসায় রূপান্তরিত করা হয়েছে। এর আগে পুরোদস্তুর কোচিং সেন্টার হিসাবে চালু ছিলো এটি। মসজিদ না থাকায় কোচিং সেন্টারেই জামাতের আয়োজন করা হয়ে আসছে সেখানে।

তবে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় ও সংগঠনগুলো মাওলানা শওকত আলী কর্তৃক নিয়মিত জামাতের আয়োজন ও কোচিং সেন্টারকে মাদরাসায় রূপান্তরের ঘটনা ভালোভাবে মেনে নিতে পারেনি। এটি স্থানীয় হিন্দু ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মাঝে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। সামাজিক অবস্থার অবনতি ঘটাচ্ছে।

শনিবার (২৪ জুন) মাওলানা শওকত আলীকে ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগে আদালতে তুলা হয়েছে বলেও সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়।

শ্রী ইয়োগেন্দ্র মল্লিক নামী গাজীয়াবাদের এক হিন্দু জানান, কোচিং সেন্টারের মালিক শওকত আলীকে শনিবার আদালতে তুলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে নামাজ পড়া দোষের নয়। কিন্তু মসজিদ না হওয়া সত্ত্বেও কোচিং সেন্টারে জামাতে নামাজ পড়ার জন্য তিনি আশপাশের সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতেন। এতে করে জামাতের আকারও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছিলো। এটাই ছিলো তার প্রকৃত দোষ।

সূত্র: দ্যা অবজার্বার পোস্ট

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ