নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ব্যাপক সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব পাঁচ দেশের চেয়ে বড়।’ একই সঙ্গে বৈশ্বিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের অগ্রণী ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সপ্তাহে প্রতিনিধিদের সামনে বক্তব্যে এরদোগান বলেন, গত তিন দশকে বিভিন্ন সংঘাত প্রতিরোধে জাতিসংঘ নিজেদের অক্ষমতা প্রমাণ করেছে। তিনি এই সময়কে সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সময় হিসেবে উল্লেখ করেন। এ সময় মিয়ানমার, দারফুর, ইউক্রেন, ফিলিস্তিন ও লেবাননে সংঘটিত রক্তপাতের কথা তুলে ধরেন তিনি।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে সরাসরি উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরিবর্তে শুধু ভিডিও লিংকের মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকেও অবিচার হিসেবে উল্লেখ করেন এরদোগান।
তিনি বলেন, গাজ্জা এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় কবরস্থানে পরিণত হয়েছে। সেখানে ৭৪ হাজার নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে এশিয়ার শ্রমিক ও আফ্রিকার দেশগুলো ক্রমবর্ধমান পুঁজিবাদী হুমকির মুখে রয়েছে।
এরদোগান আয় বৈষম্য কমানো এবং সড়ক, পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামোর মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়ানোর ভিত্তিতে একটি নতুন বৈশ্বিক কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এসব অবকাঠামোর উন্নয়ন সমাজকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এই লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির স্থিতিশীল অর্থনীতি, শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা শিল্প এবং ইউরোপের সঙ্গে তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ন্যাটো সম্মেলনের কথা উল্লেখ করে এটিকে তুরস্কের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অঙ্গীকারের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন।
একই সঙ্গে এরদোগান বলেন, জাতিসংঘের ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার পরিবর্তে তা আরও উন্নত করার বিষয়ে তুরস্কের অটল আগ্রহ রয়েছে।
তিনি খাদ্য ও কৃষি সংস্থার নেতৃত্বে একজন তুর্কি পরিচালক নিয়োগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি আন্তালিয়ায় কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব দেন।
এরদোগানের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ইংরেজি, আরবি ও তুর্কি ভাষায় তাঁর বক্তব্য নিয়ে একটি ত্রিভাষিক বই প্রকাশ করেছে। এতে পররাষ্ট্রনীতিতে আঙ্কারার ৩৬০ ডিগ্রি দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। এই কৌশলটি ২০১৮ সালে তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন প্রথম তুলে ধরেছিলেন।
দ্বিপক্ষীয় কূটনীতি
চার দিনের সফরে এরদোগান পোল্যান্ড, জাপান, বাংলাদেশ, সেনেগাল ও কাতারের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেন। এ ছাড়া আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠকগুলোতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব ও শিক্ষাবিষয়ক বিনিময় নিয়ে আলোচনা করেন এরদোগান। একই সময়ে নিউইয়র্কে তুরস্কের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট এরদোগান শহরের একটি হোটেলে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য ট্রাম্পের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
তিনি বলেন, বৃটেনে কনজারভেটিভ বা লেবার, যে দলই সরকারে থাকুক না কেন, আঙ্কারা লন্ডনের সঙ্গে শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখে। তিনি আরও বলেন, তুরস্ক কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ দর্শকদের সন্তুষ্ট করার জন্য কোনো নীতি গ্রহণ করে না। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
সূত্র : ইয়েনি শাফাক











