ডেনমার্কে আজান নিষিদ্ধের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দেশটির অভিবাসনমন্ত্রী মর্টেন বোডস্কভ।
তার দাবি, ডেনমার্কের কিছু অংশ এখন তার কাছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের কোনো উপশহরের মতো মনে হয়।
মধ্য-বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস দলের সদস্য বোডস্কভ জানান, নতুন সরকার আজান নিষিদ্ধ করার জন্য আইনগত কাঠামো তৈরি করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখছে।
সংবাদমাধ্যম রিটজাউকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ডেনমার্কে আজানের কোনো স্থান নেই। ডেনমার্কের রাস্তায় হাঁটার সময় যেন কেউ মনে না করে যে সে ইসলামাবাদের কোনো উপশহরে এসে পড়েছে।’
অবশ্য ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনসহ কিছু এলাকায় কঠোর শব্দদূষণবিষয়ক বিধিনিষেধের কারণে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে আজান দেওয়া আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২০ ও ২০২৫ সালেও সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটসরা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিল।
চলতি মাসের শুরুতে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সরকার ইউরোপের অন্যতম কঠোর অভিবাসননীতি অনুসরণ করছে।
দেশটির তথাকথিত ‘ঘেটো আইনের’ আওতায় কোনো এলাকায় বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা অতিরিক্ত হলে কর্তৃপক্ষ সেখানে বসবাসরত অভিবাসীদের অন্যত্র স্থানান্তরে বাধ্য করতে পারে।
এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ব্যয় মেটাতে তাদের গহনা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী জমা দিতে হয়।
আবার কারও আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে তিনি কোনো আর্থিক সহায়তাও পান না।
২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটের সময় মধ্যপ্রাচ্য থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ ইউরোপে আশ্রয় প্রার্থনা করে।
তখন প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় ডেনমার্ক অনেক কমসংখ্যক আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ করেছিল।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, আজান নিষিদ্ধ করার যেকোনো উদ্যোগ আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
কারণ এ ক্ষেত্রে সরকারকে একদিকে যেমন ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে, তেমনি মসজিদের আশপাশের বাসিন্দাদের অধিকারের বিষয়টিও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
ডেনমার্কের সংবিধানে প্রকাশ্যে ধর্মীয় উপাসনার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ











