spot_img
spot_img

যেখানেই ফ্যাসিবাদ সেখানেই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ: জামায়াত আমীর

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন দলের আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, নির্বাহী পরিষদ, কর্মপরিষদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার পুরুষ ও মহিলা সদস্যরা অংশ নেন।

অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম, এমপি, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এমপি, সাবেক এমপি মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলবৃন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, কর্মপরিষদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্যরা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সব অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে জামায়াতের লড়াই অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, ‘নতুন-পুরাতন ফ্যাসিবাদ বুঝি না, যেখানেই ফ্যাসিবাদ, সেখানেই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ।’

তিনি আরও বলেন, জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় দল আপসহীন অবস্থানে থাকবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন ও সংস্কার পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে জনগণ দুটি বিষয়ে ভোট দিলেও একটি ভোটের মূল্যায়ন করা হয়েছে, অন্যটি উপেক্ষা করা হয়েছে।

তার ভাষায়, কোনো ভোটই অগুরুত্বপূর্ণ নয় এবং প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের মতামত উপেক্ষিত হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি।

বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনায় পরিবর্তন ও মৌলিক সংস্কার চাইলেও সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি।

তিনি বলেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন গঠনের মতো মৌলিক বিষয়গুলো উপেক্ষিত হওয়ায় ফ্যাসিবাদ পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকেই গেছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে ৩১টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছিল এবং সেই ভিত্তিতেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

কিন্তু জনগণের রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় মানুষ শুধু হতাশ নয়, ক্ষুব্ধও হয়েছে।

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ন্যায্য অধিকার আদায়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রয়োজন হলে আরও ত্যাগ স্বীকারের প্রস্তুতি রাখতে হবে।

তিনি বলেন, জনগণের অধিকার কেউ স্বেচ্ছায় না দিলে তা আদায়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সীমান্ত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের স্বার্থে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, সীমান্তে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজিবির পাশে দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের সম্মিলিত অবস্থান প্রয়োজন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যাকে এখনো জনসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি। সুশিক্ষার অভাব এবং নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে সমাজে দুর্নীতি ও অনিয়ম বেড়েছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা দায়িত্ব পালন করেন, তাদের সততা ও মানসিকতার ওপরই সমাজের উন্নয়ন নির্ভর করে।

জামায়াতের আমীর বলেন, ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পরও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার কারণে দেশে সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ নতুন আশার সঞ্চার দেখেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল সহযোগিতা করবে।

তবে গণবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংসদের ভেতরে ও বাইরে প্রতিবাদ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে মৌলিক সংস্কার অপরিহার্য, যাতে ভবিষ্যতে কেউ স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী শাসক হয়ে উঠতে না পারে এবং জনগণের অধিকার ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিশু ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক সহিংসতার মতো ঘটনা বাড়ছে।

তিনি গাইবান্ধার সাঘাটায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক নেতার নিহত হওয়ার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ করে দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি মানবিক, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করবে।

শিশু, নারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ