কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবীতে কিশোরগঞ্জে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভায় শাব্বির আহমাদ রশীদ-কে সভাপতি ও মুফতী ওমর আহমদকে সেক্রেটারি করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটি ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ।
আজ মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জের দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়ায় এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও সভায় কিশোরগঞ্জের ১৩টি থানায় একজন করে আহবায়ক এবং সদস্য সচিব করে আহবায়ক কমিটিও গঠন করা হয়। আগামী ২০ নভেম্বর ২০২২ ইং এর মধ্যে সকল থানা কমিটিগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশীদ-এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতী কিফায়াতুল্লাহ আযহারী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, সহকারী মহাসচিব মুফতী কামাল উদ্দীন, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা রাশেদ বিন নূর এবং সহকারী প্রচার সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ সা.এর জীবদ্দশায় যতগুলো যুদ্ধ এবং সারিয়াহ সংঘটিত হয়েছে তাতে ১৫৯ জন সাহাবী শাহাদাত বরণ করেছিলেন। কিন্তু এক ইয়ামামার যুদ্ধেই খতমে নবুওয়ত হেফাজতের জন্য মিথ্যা নুবওয়াতের দাবীদার মুসাইলামাতুল কাযযাবের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় ১২০০ সাহাবী শাহাদাত বরণ করেছিলেন। এই ঘটনায় খতমে নবুওয়ত হেফাজত করা কতটা জরুরী তা স্পষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে কাদিয়ানীদের আস্ফালন অনেক বেড়ে গেছে। তারা ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া এবং অনলাইন মিডিয়ার কল্যাণে তাদের মিথ্যা দাবি-দাওয়া প্রচার করে সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। কাদিয়ানীদের সকল অপপ্রয়াস বন্ধ করতে আলেমদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সেই লক্ষ বাস্তবায়ন করার জন্যই আমরা সারাদেশব্যাপী তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের কমিটিগুলো পুনর্গঠন করছি। আজ কিশোরগঞ্জে খতমে নবুওয়তের যেই কমিটি গঠন করা হলো, আমি তাদের উত্তরোত্তর কল্যাণ কামনা করছি। আল্লাহ তাদের কাজ সহজ করুন, কবুল করুন, আমীন
সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, কিশোরগঞ্জের মাটি ইসলামী আন্দোলনের দূর্গ। ইসলামের যে কোনো তাক্বাযায় কিশোরগঞ্জের আলেম উলামা ও ইসলাম প্রিয় তৌহিদী জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের জান-মাল কুরবানী করার ঐতিহ্য রয়েছে। আমরাও আগামীতে কাদিয়ানিদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ। আজকের সভায় কেন্দ্রীয় যে সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়েছেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জের সকল থানা থেকে যে সকল আলেম উলামা এসেছেন, তাঁদের সকলকে জানাই আন্তরিক মুবারকবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
সভায় বক্তাগণ বলেন, তাহাফফুজে খতমে নবুওয়তের সভাপতি আল্লামা মুহাম্মদ ইয়াহইয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে আজ আমরা কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটি গঠন করেছি। হজরতের নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জ জেলার উলামায়ে কেরাম তাহাফফুজে খতমে নবুওতের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে ইনশাআল্লাহ। আমরা অতীতেও ইসলামের জন্য রক্ত দিয়েছি। ভবিষ্যতেও কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজনে রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিবো।
এ সময় মুফতী কিফায়াতুল্লাহ আযহারীর সঞ্চালনায় কিশোরগঞ্জ জেলার শীর্ষ উলামাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাওলানা ইমদাদুল্লাহ, মাওলানা আব্দুল আহাদ কাসেমী, মাওলানা উবাইদুল্লাহ আনোয়ার, মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ জামিসহ স্থানীয় উলামায়ে কেরাম।











