মাহবুবুল মান্নান|
ভেদাভেদ ভুলে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানালেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও চট্টগ্রাম জামিয়া আরাবিয়া জিরি মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস ড. মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসাইন।
বুধবার (২৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম লোহাগাড়া চুনতি সীরাত ময়দানে ৫২তম ১৯দিন ব্যাপী সীরাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাহফিলের সমাপনী দিনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই আহবান জানান।
ড. আ ফ ম খালিদ হোসাইন বলেন, আলিয়া ও কওমি ঘরানার ওলামা-মাশায়েখের মধ্যে যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার ঐতিহ্য রয়েছে তা ধরে রাখতে হবে। সংযমী আচরণের মাধ্যমে একে অপরের কাছে আসার সুযোগ আছে। ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে যেন ফাটল না ধরে সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।
তিনি বলেন, কিছু কুচক্রীমহল মুসলমানদের মধ্যে ফাটল ধরাতে বিভিন্ন সময় বক্তব্য, লেখনি ও ফেসবুকের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।তারা বিভিন্ন আলেম ওলামা ও সম্মানী ব্যক্তির সম্মানহানী করছে প্রতিনিয়ত। এদের চিহ্নিত করে বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, এক সময়ে বিপুলসংখ্যক দেওবন্দী আলেম আলিয়া মাদরাসায় ইলমের খিদমতে নিয়োজিত ছিলেন। আলিয়া মাদরাসার কামিল ডিগ্রিধারী অনেক আলেমের কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করার রেকর্ডও আছে। আল্লামা আশরাফ আলী থানভী রহ:-এর ভাগিনা আল্লামা জাফর আহমদ উসমানী এবং বায়তুল মোকাররমের জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা উবায়দুল হক ছিলেন ফাজিলে দেওবন্দ। তারা সারা জীবন শিক্ষকতা করেছেন ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় এবং সদরুল মুদাররিসিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আল্লামা মুহাম্মদ ফজলুল্লাহ ছিলেন ফাজিলে সাহারানপুর। সারা জীবন নাজিমে আ’লা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতী হাকিমিয়া আলিয়া মাদরাসায়। বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ “ইন’আমুল বারী”-এর লেখক মাওলানা মুহাম্মদ আমীন, কবি ইকবালের শিকওয়া ওয়া জওয়াবে শিকওয়ার ভাষ্যকার মাওলানা আবদুন নুর ও মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুর রশিদ চুনতী হাকিমিয়া আলিয়া মাদরাসা থেকে ফাজিল ডিগ্রি নেয়ার পর দারুল উলূম দেওবন্দে অধ্যয়ন করে দাওরায়ে হাদিস পাস করেছিলেন।সাতকানিয়া আলিয়া মাদরাসার ভাইস-প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল মান্নান পটিয়া মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক ছিলেন।
এসময় তিনি গ্রেফতারকৃত সকল আলেম-ওলামাদের মুক্তি দিতে সরকারের কাছে জোর দাবী জানান।











