spot_img
spot_img

সাভারে খতমে নবুওয়তের সীরাত কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর ৭নং জোনের উদ্যোগে সীরাত কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন ৭নং জোনের সভাপতি মাওলানা আলী আজম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত এর সিনিয়র সহ সভাপতি আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) সকাল নয়টায় সাভার বন্ধন পার্টি সেন্টারে এই সীরাত কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতি মাওলানা আলী আজম বলেন, বাংলাদেশের প্রাচীনতম অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নুবওয়ত বাংলাদেশ। আজকে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত ঢাকা মহানগর ৭নং জোনের আহবানে আপনারা অনেক কষ্ট স্বীকার করে এখানে সমবেত হয়েছেন। সকলকে তাহাফফুজে খতমে নুবওয়ত বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর ৭নং জোনের পক্ষ থেকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলের এ উপস্থিতিকে কবুল করুন, আজকের এ সীরাত কনফারেন্সকে আমাদের সকলের নাজাতের মাধ্যম বানিয়ে দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী বলেন, সরকার অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। কিন্তু কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে এখনো অমুসলিম ঘোষণা করে নাই। কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা না করলে এসব উন্নয়নমূলক কাজের কোনো দাম নেই। কাদিয়ানীরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে শেষ নবী মানে না। তাই আমরা তাদের কাফের ঘোষণা করেছি। আমরা চাই সরকারও তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করুক।

প্রধান আলোচক মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী তার বক্তব্যে বলেন, আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা বাইতুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সাবেক খতীব ওবায়দুল হক রহিমাহুল্লাহ এবং আহমদ শফী রহিমাহুল্লাহ সহ এদেশের সকল শীর্ষস্থানীয় বরেণ্য উলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের ন্যায় কাদিয়ানীদেরকে অমুসলিম ঘোষণার জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রায় তিন যুগ যাবত বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের কাছে দাবী জানিয়ে আসছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ হওয়ার পরেও এযাবৎ কোন সরকারই তৌহিদী মুসলিম জনতার প্রাণের এই দাবী বাস্তবায়নের জন্য কোন রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করে নি।

তিনি বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা দেশের উলামায়ে কেরামের অনেক দাবী মেনে নিয়েছেন। আমরা মনে করি, আপনারা আমাদের ঈমানী এই দাবী তথা কাদিয়ানীদেরকে অমুসলিম ঘোষণা করার দাবীও পূরণ করবেন।

বিগত ২৫ ই নভেম্বর ২০০৪ সালে কাদিয়ানীদের সকল বইপুস্তক এবং তাদের প্রকাশিত কুরআন মাজীদকে সরকার গ্যাজেট প্রকাশ করে বাজেয়াপ্ত করেছিলো। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, একটি কুচক্রী মহল কোর্টে রিট আবেদন করে এই গ্যাজেটকে স্থগিত করে। আজকের এই সীরাত কনফারেন্স থেকে অবিলম্বে নতুন গ্যাজেটের মাধ্যমে তাদের সকল বইপুস্তক বাজেয়াপ্ত করার দাবী জানাচ্ছি।

বিশেষ অতিথি মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী বলেন, কাদিয়ানীরা মুসলমান নয়। তারা অমুসলমান। কাদিয়ানীদেরকে যারা অমুসলমান মনে করবে না তারাও অমুসলমান। বহু শিক্ষিত সমাজ এদেরকে মুসলমান মনে করে। তারা বলে এরাও তো নামাজ কালাম পড়ে। তাহলে তারা মুসলমান নয় কেন? তারা এজন্য কাফের। কারণ তারা আমাদের নবীকে শেষ নবী মানে না। সেজন্য তারা কাফের। যারা এদেরকে কাফের বলবে না তারাও কাফের। সৌদি আরব, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছে। আমরাও সরকারের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি, অনতিবিলম্বে কাদিয়ানীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করুন।

বিশেষ অতিথি মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী বলেন, এই তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ সংগঠনটি আমাদের আকাবীর আসলাফদের আমানত ও ঈমানী কাজ। ইনশাআল্লাহ আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের বড়দের রেখে যাওয়া আমানত রক্ষায় এবং ঈমানী দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবো।

বিশেষ অতিথি মুফতি কিফায়াতুল্লাহ আযহারী বলেন, গত ২৭ আগস্ট’২২ ইং রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত কাজী বশির মিলনায়তনে কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে উলামা মাশায়েখ ও প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। সেই সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল- আগামী ৬ মাসের মধ্যে সারাদেশের সকল জেলা কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হবে। সেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে মহাসচিবের তত্ত্বাবোধানে সারাদেশে আমরা সফর শুরু করেছি। ইতিমধ্যে কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও রংপুর বিভাগ ও জেলা কমিটি পুনর্গঠন সম্পন্ন করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ এক এক করে সারাদেশের কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হবে।

অনুষ্ঠান শেষে ৭নং জোনের সেক্রেটারি মুফতি মাহফুজুর রহমান আগামী দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কর্মসূচি
১। আগামী (২০২৩ ইং) বছরে ঢাকা মহানগর ৭নং জোনের তিন থানায় (সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই) তে পৃথক পৃথক খতমে নবুওয়ত সম্মেলন করা হবে।

২। আগামী রবিউল আউয়াল মাসে মহানগর ৭নং জোনের তিন থানায় (সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই) তে সীরাত সম্মেলন করা হবে।

৩। আক্বিদায়ে খতমে নবুওয়াত ও রদ্দে কাদিনিয়াতের উপর ঢাকা মহানগর ৭নং জোনের তিন থানায় (সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই) তে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হবে।

৪। যেসব এলাকায় কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের অপতৎপরতা দেখা যাবে সেসব এলাকায় দাওয়াতি কাফেলা প্রেরণ করা হবে।

৫। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগর ৭নং জোনের অন্তর্গত সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এ থানা কমিটি ঘোষণা করা হবে।

৬। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, স্কুল, কলেজ, ভার্সিটির শিক্ষকবৃন্দ সহ বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষ ও ব্যবসায়ী তথা আম জনসাধারণের মাঝে খতমে নবুওয়ত বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সেমিনারের আয়োজন করা হবে।

এ সময় মুফতি মাহফুজুর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম সরদার ও মাওলানা আহসা মাহবুবের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, মুফতি শাহ নুরুল আমিন, মাওলানা জহুরুল ইসলাম, মুফতি সাঈদ নূর, মাওলানা ইউসুফ সাদিক হক্কানী, মুফতি মাসউদুল করিম, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মুফতি আব্দুর রাজ্জাক কাসেমী, মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা এনামুল হক মূসা, মুফতি কামাল উদ্দীন, মাওলানা আলী আকবর, মাওলানা আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী, মাওলানা রাশেদ বিন নূর, মাওলানা আশরাফ মাসরূর, মাওলানা জুবায়ের, মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা মাহমুদুর রহমান, মুফতি আল আমিন ফয়জী, মাওলানা আফসার মাহমুদ, মুফতি আলী আকরাম, মুফতি সুলতান মাহমুদ, মুফতি মাহফুজ হায়দার, মুফতি মাহবুব গুলজার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ