সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার চুক্তিতে নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, চুক্তিটি কার্যকর করতে হলে রিয়াদকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিতে হবে। তবে সৌদি আরব এখন পর্যন্ত এ শর্ত মেনে নেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। বরং দেশটির অবস্থান, গত সপ্তাহে সই হওয়া পারমাণবিক চুক্তি এখনো বহাল রয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) আমেরিকার রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম দ্য হিল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত বুধবার আমেরিকার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট সৌদি আরবের সঙ্গে বড় একটি পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির ঘোষণা দেন। সে সময় ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে দুই দিন পর ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ না দিলে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিটি কার্যকর হবে না। তার দাবি, সৌদি আরব ও ক্রিস রাইট আগে থেকেই এ শর্ত সম্পর্কে জানতেন।
সৌদি ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক মুহাম্মাদ আল হামাদ বলেছেন, ট্রাম্পের বক্তব্যে চুক্তির মূল কাঠামো বদলে যায় না। তার মতে, ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়া যদি আনুষ্ঠানিক শর্ত হতো, তাহলে তা চুক্তিতেই উল্লেখ থাকত।
তিনি মনে করেন, ওয়াশিংটনের ইসরাইলপন্থী মহলকে আশ্বস্ত করতেই ট্রাম্প এ বক্তব্য দিয়েছেন।
সৌদি দূতাবাস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এদিকে আমেরিকার সাবেক কূটনীতিকদের ধারণা, রিয়াদ আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ চুক্তিটি একদিকে সৌদি আরবের জ্বালানি কৌশল এগিয়ে নেবে, অন্যদিকে আমেরিকার কোম্পানিগুলোর জন্য বড় অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করবে।
চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সম্ভাবনা যাচাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
তবে রিয়াদ এখনো স্পষ্ট করে বলছে, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিশ্বাসযোগ্য পথ তৈরি না হলে তারা ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। ফলে পারমাণবিক চুক্তি এগিয়ে গেলেও এ রাজনৈতিক জট এখনো কাটেনি।










