spot_img
spot_img

আওয়ামী স্টাইলে দেশ চালালে পরিণতিও তাদের মতো হবে: কামাল হোসেন

বর্তমান সরকার যদি আওয়ামী লীগের স্টাইলে দেশ পরিচালনা করতে চায় এবং তাদের সঙ্গে একাকার হয়, তাহলে তাদের পরিণতিও আওয়ামী লীগের মতোই ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘২৮ অক্টোবর ২০০৬ : আওয়ামী নৃশংসতা ও ফ্যাসিবাদের উত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কামাল হোসেন বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ক্ষমতা হস্তান্তরের দিনে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রহস্যজনক নীরবতা এবং বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আজও বহু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের প্রেক্ষাপট অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার পাঁচ বছর পূর্ণ করার পর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একসঙ্গে সমাবেশ করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও প্রধান শরিক দল তা করেনি। এমনকি ২৭ অক্টোবর রাত দুইটায় হঠাৎ করেই পল্টনের শ্রমিক সমাবেশ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছিল। পরদিন সকাল থেকে আওয়ামী-বাম ফ্যাসিবাদের সন্ত্রাসীরা নিরস্ত্র জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ওপর নৃশংস তাণ্ডব চালালেও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের কোনো আহ্বানে সাড়া দেননি। এই বিষয়গুলোর উত্তর আজও জাতি পায়নি।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২৮ অক্টোবরের সেই বর্বরতা ছিল মূলত আধিপত্যবাদী অপশক্তি ও তাদের এদেশীয় এজেন্টদের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ, যার মাধ্যমে পরবর্তীতে ১/১১ এবং দীর্ঘ দেড় দশকের আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পট প্রস্তুত করা হয়েছিল। বিগত ২০ বছর ধরে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। তবে ৪০ বছর পরও যদি পুরোনো ইস্যু তোলা যায়, তবে এই দেশের সচেতন জনগণ ১০ বা ২০ বছর পর হলেও ২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিচার নিশ্চিত করবে, ইনশাআল্লাহ।

বর্তমান ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এবং গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে চলতে পারে না। আওয়ামী লীগ থাকলে গণতন্ত্র থাকে না, আর গণতন্ত্র থাকলে আওয়ামী লীগ থাকে না। এখন আপনারা যদি একই ফ্রেমিংয়ে, একই সিস্টেমে আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দের চরিত্র হননের আওয়ামী বয়ান দেন এবং তাদের সঙ্গে একাকার হন, তবে বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষ আপনাদের বিরুদ্ধেও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে পিছপা হবে না।

তিনি অবিলম্বে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে মেহনতি মানুষ, শ্রমিক, ছাত্র ও যুবকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ২৮ অক্টোবরের শহীদদের রক্তের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ