ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অর্জন। আমার দাদা চরমোনাই’র প্রতিষ্ঠাতা পীর সৈয়দ এছহাক (রহ.) ও আমার বাবা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম (রহ.) চরমোনাই মাদরাসায় মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি তৈরীতে পৃষ্টপোষকতা করেছেন। সংখ্যালঘু হিন্দু সমপ্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় দিয়েছেন। বিপদে পড়ে তাদেরকে ধর্মান্তরিত হবার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করে কেউ ইসলাম ও ইসলামী শিক্ষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলে এদেশের মানুষ তা মেনে নিবে না।
সোমবার (২৮ নভেম্বর) চরমোনাই মাদরাসা মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি।
মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মহান লক্ষ্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অতীতের ন্যায় আগামীদিনে ও থাকবে ইনশাআল্লাহ।
মতবিনিময় সভায় মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু স্বাধীনতার ৫১ বছরেও মুক্তিযুদ্ধের সে লক্ষ্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মহান লক্ষ্য প্রতিষ্ঠার থেকে দূরে সরে সরকার মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে ৭২ এর সংবিধানের দোহাই দিয়ে ৯২% মুসলমানদের দেশ থেকে ইসলাম ও ইসলামী শিক্ষা নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।
মুক্তিযোদ্ধারা আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরে রচিত ৭২ এর সংবিধান রক্ষায় আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি। মুক্তিযুদ্ধ করেছি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু এখন মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়ন না করে ৭২ এর সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দিয়ে এখন আবার রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম তুলে দেবার চক্রান্ত চলছে। শিক্ষা থেকে ইসলামী শিক্ষা তুলে দেবার আয়োজন চুড়ান্ত করেছে। এগুলো মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধারা মেনে নিবে না। ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা এবং ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা চরমোনাই পীর’র নেতৃত্বে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।











