রবিবার | ১৮ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

ডেথ সেলে ইমরান খান, ছেলের অভিযোগ পরিবারের কাছে নেই বেঁচে থাকার কোনো প্রমাণ

রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব ও রহস্যময় নীরবতা ঘিরে তোলপাড় চলছে দেশজুড়ে। তার তিন বোন অভিযোগ করেছেন, বারবার চেষ্টা করেও ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছে না কারা কর্তৃপক্ষ, বরং আদিয়ালা কারাগারের বাইরে তাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইমরান খান ও তার দল পিটিআইয়ের নেতাকর্মী–সমর্থকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, আদিয়ালার আশপাশে জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার পিটিআই কর্মী।

এই অবস্থায় আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, ইমরান খান এখনো আদিয়ালা কারাগারেই আছেন, তাকে অন্য কোথাও সরানো হয়নি, তিনি নাকি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও দাবি করেছেন, কারাগারে তাকে সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব দাবির পরও তার প্রকৃত অবস্থা নিয়ে রহস্য কাটছে না। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছোট ছেলে কাসিম খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ একটি জোরালো বার্তা দিয়েছেন, যেখানে তিনি বলেছেন, পরিবারের কাছে এখনো পর্যন্ত বাবার “বেঁচে থাকার কোনো প্রমাণ” নেই।

কাসিম খান তার পোস্টে লিখেছেন, “আমার বাবা ৮৪৫ দিন ধরে গ্রেপ্তার অবস্থায় আছেন। গত ছয় সপ্তাহ ধরে তাকে কোনো ধরনের স্বচ্ছতা ছাড়া ‘ডেথ সেল’-এ একক বন্দিত্বে রাখা হয়েছে। পরিষ্কার কোর্ট অর্ডার থাকার পরও তার বোনদের প্রতিটি সাক্ষাৎ–অনুরোধই বাতিল করা হয়েছে। কোনো ফোন কল নেই, কোনো সাক্ষাৎ নেই, আর বেঁচে থাকার কোনো প্রমাণও নেই। আমি আর আমার ভাই বাবার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারিনি।”

কাসিম খান পাকিস্তানের বাইরে অবস্থান করেন এবং এতদিন সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চেয়েছেন বলে পরিচিত ছিলেন। তবে বাবার দীর্ঘ কারাবাস ও আদিয়ালা কারাগার ঘিরে সাম্প্রতিক গুজবের পর তিনি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এত কড়া ভাষায় কথা বললেন।

তিনি জানান, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পাকিস্তান সরকার অঘোষিতভাবে ইমরান খানের সঙ্গে পরিবারের সাক্ষাৎ বন্ধ করে রেখেছে। এর আগে ইমরানের বোনরা কারাগারের বাইরে অবস্থান নিয়ে সাক্ষাতের দাবি জানাতে গেলে নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে।

ইমরান খান ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীত্ব হারান। এর পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলা, সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে হামলা ও রাষ্ট্রের গোপন নথি ফাঁসের অভিযোগ আনা হয়। অনেক নাটকীয়তার পর ২০২৩ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক দফা মুক্তি পেলেও আবার গ্রেপ্তার হন তিনি এবং ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারেই আছেন। কাসিমের দাবি, এই দীর্ঘ কারাবাসের শেষ দিকের সময়টা গত ছয় সপ্তাহ ধরে “ডেথ সেল”–এ নিঃসঙ্গ বন্দিত্ব আর অন্তত ২৪ দিন ধরে সম্পূর্ণ যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় কাটছে, যার কোনো স্বাধীন প্রমাণ পরিবারকে দেখানো হয়নি।

পরিস্থিতিকে “সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট” আখ্যা দিয়ে কাসিম আরও লিখেছেন, “এই সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট কোনো নিরাপত্তা প্রটোকল নয়। এটি ইচ্ছাকৃতভাবে তার শারীরিক অবস্থা গোপন করার চেষ্টা এবং আমাদের পরিবারকে এই সত্য থেকে বঞ্চিত রাখা যে, তিনি নিরাপদ আছেন কি না।”

তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমার বাবার নিরাপত্তা এবং এই অমানবিক একঘরে বন্দিত্বের প্রতিটি পরিণতির জন্য পাকিস্তান সরকার ও তাদের হ্যান্ডলারদেরই আইনগতভাবে, নৈতিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পূর্ণ দায় বহন করতে হবে।”

আন্তর্জাতিক মহল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে কাসিম বলেন, “আমি আন্তর্জাতিক মহল, বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং প্রতিটি গণতান্ত্রিক কণ্ঠকে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছি। তার বেঁচে থাকার প্রমাণ দাবি করুন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী সাক্ষাতের সুযোগ বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করুন, এই অমানবিক একঘরে বন্দিত্বের অবসান ঘটাতে বলুন এবং পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা, যাকে শুধু রাজনৈতিক কারণে বন্দি করে রাখা হয়েছে, তার মুক্তির দাবি তুলুন।”

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ