আফগানিস্তানে আমেরিকার ২০ বছরের সম্পৃক্ততা পর্যালোচনাকারী মার্কিন আফগান যুদ্ধ কমিশনের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে আফগানিস্তান সংঘাতের সময় পাকিস্তানের সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আফগানিস্তানের বিভিন্ন উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাওয়ালপিন্ডির জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে কমিশনের দুই সহ-সভাপতি শামিলা এন. চৌধুরী ও ড. কলিন এফ. জ্যাকসনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।
বৈঠকে কমিশনের পর্যালোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আসিম মুনির সংঘাতের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণকারী নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রতিবেশী আফগানিস্তানে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সময় পাকিস্তান যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, সেগুলোও তুলে ধরেন।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, সংঘাতের কৌশলগত, কূটনৈতিক ও সামরিক দিক মূল্যায়নের সময় আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পাকিস্তানের অভিজ্ঞতাকে অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন মুনির।
২০০১ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত আফগানিস্তান যুদ্ধে আমেরিকার সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের স্বাধীন পর্যালোচনা করতে ২০২১ সালে মার্কিন কংগ্রেস আফগান যুদ্ধ কমিশন প্রতিষ্ঠা করে। কমিশনটি আমেরিকার সম্পৃক্ততার সামরিক, কূটনৈতিক, গোয়েন্দা ও বৈদেশিক সহায়তার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছে।
২০২১ সালের ৩০ আগস্ট আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে প্রায় দুই দশকের মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততার অবসান ঘটে।
সংঘাতজুড়ে পাকিস্তান ছিল গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার। আফগানিস্তানের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। একই সঙ্গে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন অভিযানে পাকিস্তান সরবরাহ ও অন্যান্য সহায়তা দিয়েছে। তবে যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হয়েছে দেশটি।
আফগানিস্তানে আমেরিকার সম্পৃক্ততাকে প্রভাবিত করা সিদ্ধান্ত ও ঘটনাগুলো নিয়ে আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি সংগ্রহের সময় আসিম মুনিরের সঙ্গে কমিশনের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সংঘাতের বৃহত্তর কৌশলগত, কূটনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে পাওয়া শিক্ষাগুলো পর্যালোচনা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র : আরিয়ানা নিউজ











