পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাবুল। একই সঙ্গে সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আফগান সরকার।
ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই কাবুল প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্কের নীতি অনুসরণ করে আসছে।
তিনি বলেন, অঞ্চলের অধিকাংশ দেশের সঙ্গে ইমারাতে ইসলামিয়ার সম্পর্ক ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে উজবেকিস্তান, ইরান, চীন ও তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে।
মুজাহিদ আরও বলেন, তাজিকিস্তানের সঙ্গেও সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করতে প্রচেষ্টা চলছে।
পাকিস্তান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়া ক্ষমতায় ফেরার পর শুরুতে কাবুল ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক ইতিবাচক ছিল। তবে পরে পাকিস্তানের কিছু পদক্ষেপ ও লঙ্ঘনের কারণে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়।
জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জোর দিয়ে বলেন, এই উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য ইমারাতে ইসলামিয়া দায়ী নয়। একই সঙ্গে তিনি সব প্রতিবেশী দেশ, বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে কাবুলের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।
তার মতে, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত করার লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইমারাতে ইসলামিয়া এখনো ব্যাপক আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পেলেও বাণিজ্য, ট্রানজিট ও অর্থনৈতিক খাতে আফগানিস্তানের সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
ইমারাতে ইসলামিয়া ক্ষমতায় ফেরার প্রায় পাঁচ বছর পরও রাশিয়াই এখন পর্যন্ত একমাত্র দেশ, যারা আফগান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে কাবুল বলছে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত তারা পূরণ করেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও মানবাধিকার-সংক্রান্ত বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র : আরিয়ানা নিউজ











