আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছেন ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ।
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের বৈশ্বিক নিরাপত্তা ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। চলতি মাসের ২৬ তারিখে শুরু হওয়া এই ফোরাম শুক্রবার (২৯ মে) শেষ হয়। বৈশ্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ছিল এবারের ফোরামের মূল আলোচ্য বিষয়।
মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ বলেন, আফগানিস্তানের ভূখণ্ডের ওপর ইমারাতে ইসলামিয়া পূর্ণ সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করছে। তাই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ হওয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী হলে তা শুধু আফগানিস্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ বলেন, “আমরা এমন একটি পেশাদার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাই, যা শুধু আফগানিস্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এই ফোরামের মাধ্যমে আমরা আবারও একটি প্রমাণিত বাস্তবতার ওপর জোর দিচ্ছি, যারা ভুল হিসাব-নিকাশ ও অহংকারের কারণে আমাদের জনগণের ক্ষতি করতে চেয়েছে, তারা তাদের অশুভ লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।”
ফোরামে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগুও বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, পশ্চিমাদের নেতৃত্বাধীন একমেরু বিশ্বের যুগ শেষ হতে চলেছে। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমাদের চাপিয়ে দেওয়া নীতি প্রত্যাখ্যানের ওপর জোর দেন।
সের্গেই শোইগু বলেন, “একমেরু বিশ্ব ভেঙে পড়ছে। গ্লোবাল সাউথ ও ইস্টের দেশগুলো অনেক আগেই বুঝতে পেরেছে, বৈশ্বিক উত্তেজনার নজিরবিহীন বৃদ্ধি পশ্চিমা দেশগুলোর অবিরাম প্রচেষ্টার ফল। তারা নিজেদের বাহ্যিক প্রভাব বিস্তার করতে এবং অন্য জাতির সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এটিই এখন নয়া উপনিবেশবাদ হিসেবে পরিচিত।”
ফোরামের ফাঁকে রাশিয়ার উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী ও মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দ্বিপক্ষীয় সামরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
রাশিয়ায় সরকারি সফরের সময় মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ মস্কোতে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের দূতাবাসও পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি দূতাবাসের কার্যক্রম ও প্রতিনিধিত্বের প্রশংসা করেন।
তিনি আফগান নাগরিকদের জন্য মানসম্মত, কার্যকর ও সময়োপযোগী কনস্যুলার ও প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন।
সূত্র : টোলো নিউজ











