spot_img
spot_img

পশ্চিম তীরে সর্বোচ্চ হারে ফিলিস্তিনি শিশু হত্যা করছে ইসরাইল

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১৯৬৭ সালের পর সর্বোচ্চ হারে ফিলিস্তিনি শিশুদের হত্যা করছে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি বাহিনী। ২০২৫ সালে সেখানে ৫৪ শিশুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থা বি’তসেলেম।

সংস্থাটি জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে নিহত ফিলিস্তিনিদের প্রায় প্রতি চারজনের একজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক। দখলদারিত্ব শুরুর পর থেকে এটি অপ্রাপ্তবয়স্ক নিহতের সর্বোচ্চ অনুপাত।

সোমবার (২৯ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থা বি’তসেলেম।

শিশু মৃত্যুর সংখ্যা এত বেশি হওয়া সত্ত্বেও এসব হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কাউকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এসব ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অভিযোগপত্রের তথ্যও জানা যায়নি।

বি’তসেলেম বলেছে, এসব মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ভুল বা সামরিক আদেশ লঙ্ঘন নয়। বরং এগুলো এমন এক ইসরাইলি নীতির ফল, যা শিথিল গুলি চালানোর নিয়মকে অনুমোদন দেয়, নিয়মিতভাবে ফিলিস্তিনিদের “সন্ত্রাসী” আখ্যা দেয় এবং প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারকারী সেনাদের সুরক্ষা দেয়।

বি’তসেলেমের নির্বাহী পরিচালক ইউলি নোভাক বলেন, “পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোরদের ব্যাপক ও নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ড একটি বিস্তৃত ইসরাইলি নীতির ফল, যা প্রায় কোনো জবাবদিহি ছাড়াই ফিলিস্তিনিদের হত্যার সুযোগ করে দেয়।”

তিনি বলেন, “যখন ওই এলাকার সামরিক কমান্ডার দম্ভ করে বলেন, ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ‘১৯৬৭ সালের পর যেভাবে হত্যা করা হয়নি’ সেভাবে হত্যা করছে। তখন তিনি ঠিক সেটিই নিশ্চিত করছেন, এই ব্যবস্থা শুধু ট্রিগার টানা ব্যক্তিদের সমর্থনই করে না, কার্যত তাদের হত্যার লাইসেন্সও দিয়ে দেয়।”

শিশু হত্যার ‘গ্রিন লাইট’

চলতি বছরের শুরুর দিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার আভি ব্লুথ বলেন, সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনিদের এমন মাত্রায় হত্যা করছে, যা “১৯৬৭ সালের পর দেখা যায়নি”।

একটি রুদ্ধদ্বার ফোরামে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি শিথিল গুলি চালানোর নিয়মের পক্ষেও সাফাই দেন, যার মাধ্যমে সেনারা নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপরও গুলি চালাতে পারে।

ব্লুথ বৈষম্যমূলক একটি পদ্ধতির কথাও স্বীকার করেন। ওই পদ্ধতির অধীনে পাথর নিক্ষেপকারী ইহুদি ইসরাইলিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয় না। অথচ একই ধরনের কাজ করা ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালানো হয়।

ফিলিস্তিনিদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তিন বছরে আমরা ১ হাজার ৫০০ সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “তাহলে কীভাবে কোনো ইন্তিফাদা নেই? তারা কেন রাস্তায় নামছে না? ফিলিস্তিনি জনসাধারণ কেন উদাসীন? কেন কোনো অস্থিরতা নেই?”

২০২৪ সাল থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর কমান্ডে থাকা বসতি স্থাপনকারী ব্লুথ বলেন, “আরবরা বুঝে যে, ‘কেউ যদি তোমাকে হত্যা করতে উঠে দাঁড়ায়, আগে তাকেই হত্যা করো’ মধ্যপ্রাচ্যের নিয়মের অংশ। তাই আমরা এমনভাবে হত্যা করছি, যেভাবে ১৯৬৭ সালের পর হত্যা করিনি।”

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর, ওচা’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীর ও অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমে ইসরাইলি বাহিনী ১ হাজার ১০৫ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। তাদের মধ্যে অন্তত ২৪২ জন শিশু।

বি’তসেলেম বলেছে, তারা যেসব ঘটনা নথিভুক্ত করেছে, তার প্রায় এক-চতুর্থাংশ ক্ষেত্রে ইসরাইলি বাহিনী আহত শিশুদের কাছে চিকিৎসা দল পৌঁছাতে বিলম্ব করেছে অথবা বাধা দিয়েছে। এতে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, ইসরাইল যেসব ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, তাদের বহু মরদেহ জব্দ করে রেখেছে। ২০২৫ সালে নিহত অন্তত ১৮ শিশুর মরদেহ এখনও ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছে আটক রয়েছে।

বি’তসেলেমের বিবৃতিটি মূলত অধিকৃত পশ্চিম তীরকে কেন্দ্র করে হলেও সংস্থাটি বলেছে, এসব হত্যাকাণ্ডকে গাজ্জার হত্যাকাণ্ড থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। গাজ্জায় ইসরাইলের গণহত্যার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করা।

বি’তসেলেম বলেছে, “পশ্চিম তীরের হত্যাকাণ্ডকে গাজ্জা উপত্যকায় ইসরাইলের হাতে ২১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিশু হত্যার ঘটনা থেকে আলাদা করা যায় না।”

সংস্থাটি বলেছে, “গাজ্জায় এত বড় পরিসরে কোনো পরিণতি ছাড়াই ইসরাইলকে হত্যা চালানোর সুযোগ দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কার্যত পশ্চিম তীরেও একই প্রাণঘাতী নীতি অনুসরণের জন্য তাকে গ্রিন লাইট দিয়েছে।”

বি’তসেলেম আরও বলেছে, “যতদিন ইসরাইল বিশ্বে প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি ভোগ করতে থাকবে, ততদিন ফিলিস্তিনিদের জীবন, শিশুদের জীবনসহ, অরক্ষিত ও ঝুঁকির মুখে থাকবে।”

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ