spot_img
spot_img

সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে আফগানিস্তানে ফিরে আলোচনার আহ্বান সীমান্তমন্ত্রী নূরির

সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে আফগানিস্তানে ফিরে এসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের সীমান্ত ও জাতিগত বিষয়ক মন্ত্রী মোল্লা নূরুল্লাহ নূরি। একই সঙ্গে তালেবান শাসনের পতন ঘটানো হলে তারা কী ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কাবুলে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় নূরি অন্তত একটি তালেবানবিরোধী ফ্রন্টের নাম উল্লেখ করে জানতে চান, তারা আফগানিস্তানকে কার কাছ থেকে ‘মুক্ত’ করতে চায় এবং তালেবানকে সরিয়ে কী ধরনের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

নূরি বলেন, “সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে তোমরা কার কাছ থেকে আফগানিস্তানকে মুক্ত করবে? বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে। বিভিন্ন দেশে কিছু মানুষ মাঝে মাঝে বৈঠক করে বলে, তারা আফগানিস্তানকে মুক্ত করার জন্য কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাদের প্রথমে ব্যাখ্যা করা উচিত, তারা আসলে কী বোঝাতে চায়। আফগানিস্তান কে দখল করেছে যে তোমরা তাকে মুক্ত করবে? তোমরা কার কাছ থেকে আফগানিস্তানকে মুক্ত করছ?”

তালেবানবিরোধীদের ‘দাস’ হিসেবে উল্লেখ করলেও নূরি বলেন, তালেবান আলোচনা ও বোঝাপড়ায় সক্ষম।

তিনি বলেন, “আমরাই সেই জনগোষ্ঠী, যারা ২০ বছর পর আমাদের সবচেয়ে কঠিন শত্রুর সঙ্গে বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলাম এবং আমরা যুদ্ধের ময়দানে এর ফল অর্জন করেছি। তাই বোঝাপড়ার ভাষাও আমাদের জানা আছে। আমরা প্রস্তাব শুনি এবং আমরা আলোচনা করতে পারি।”

তিনি সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে আফগানিস্তানে ফিরে আসার আহ্বান জানান। যাদের কোনো অভিযোগ বা ক্ষোভ রয়েছে, তাদের সংলাপের মাধ্যমে তা সমাধান করারও আহ্বান জানান তিনি।

এর আগেও মোল্লা নূরি একই ধরনের আহ্বান জানিয়েছেন। বিদেশে অবস্থানরত তালেবানবিরোধীদের সশস্ত্র প্রতিরোধের পরিবর্তে দেশে ফিরে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

নূরির এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন তালেবান বাহিনী এখনো সশস্ত্র বিরোধী ফ্রন্টগুলোর সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িত। এর মধ্যে নুরিস্তানের কামদেশ জেলায় সাম্প্রতিক সংঘর্ষও রয়েছে। তালেবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, সেখানে একটি অভিযানে ৪১ জন সশস্ত্র বিরোধী ও আইএসআইএস সদস্য নিহত এবং আরও ৬২ জন আটক হয়েছে। তবে এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নুরিস্তানের ওই সংঘর্ষে জড়িত যোদ্ধাদের পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সহায়তা করেছে বলে তালেবান যে অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটি এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে।

মোল্লা নূরি পাকিস্তানের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও সতর্ক করে বলেছেন, তারা যেন তালেবানের ধৈর্যের পরীক্ষা না নেয়।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের গোয়েন্দা ও সামরিক বাহিনীকে আমি শুধু এটুকুই বলছি, আফগানিস্তানের জনগণকে ঐতিহাসিকভাবে, আদর্শিকভাবে, তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে এবং রাজনৈতিকভাবে জানুন।

সম্প্রতি আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে পাকিস্তানি হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নূরি সতর্ক করে বলেন, তালেবানের ধৈর্যের সীমা শেষ হয়ে গেলে পাকিস্তানকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হতে পারে। ২৪ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান কান্দাহার, পাকতিয়া ও খোস্তে বিমান হামলা চালায়। পাকিস্তান জানায়, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে তালেবান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তালেবান ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়েছে। সীমান্তে বারবার সংঘর্ষ এবং দুই দেশের সীমান্তের উভয় পাশে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তান তালেবানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালানো সশস্ত্র ব্যক্তিদের, বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপিকে, আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করছে। তালেবান কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সূত্র : আমো টিভি

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ