সোমবার | ১ ডিসেম্বর | ২০২৫

ওকালানকে মুক্তি দিয়ে তুরস্ককে শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হওয়ার আহবান কুর্দিদের

প্রভাবশালী কুর্দি নেতা আব্দুল্লাহ ওকালানকে মুক্তি দিয়ে তুরস্ককে শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হওয়ার আহবান জানিয়েছে কুর্দিরা।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হতে এবার তুরস্ককে পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়েছে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)।

তুরস্ক কর্তৃক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত দলটির সিনিয়র কমান্ডার আহমদ মালাজগির্ত এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে প্রভাবশালী কুর্দি নেতা আব্দুল্লাহ ওকালানকে মুক্তি দেওয়ার মাধ্যমে তুরস্ককে শান্তি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে আসার আহবান জানান।

উত্তর ইরাকের কান্দিল পর্বতমালার বাঙ্কারে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, নেতা আপোর (আব্দুল্লাহ ওকালান) যেসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে বলেছিলেন সেসব বাস্তবায়িত হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। এখন আমরা তুরস্কের অপেক্ষা করবো। তাদেরই পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এক্ষেত্রে তুরস্কের প্রতি পিকেকের প্রধান দাবি ২টি। প্রথমত, নেতা আপোর (আব্দুল্লাহ ওকালান) স্বাধীনতা। এটি ছাড়া শান্তি প্রক্রিয়া সফল হবে না। দ্বিতীয়ত, তুরস্কে কুর্দি জনগণের সাংবিধানিক ও সরকারি স্বীকৃতি।

দলটির নারী সিনিয়র কমান্ডার সেরদা মাজলুম গাবার বলেন, নেতাদের বন্দী অবস্থায় কুর্দি জনগণ পরিপূর্ণ মুক্ত বলে গণ্য হতে পারে না। আমরা গেরিলারাও নিজেদের মুক্ত মনে করতে পারি না। আমাদের স্বাধীনতার পথ নেতাদের স্বাধীনতার মধ্য দিয়েই যায়।

সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ৭৬ বছর বয়সী প্রভাবশালী কুর্দি নেতা আব্দুল্লাহ ওকালান তুর্কি-কুর্দি শান্তি প্রক্রিয়ায় তুরস্কের ইমরালি দ্বীপের কারাগার থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যেখানে ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি নির্জন বন্দিত্ব ভোগ করে আসছেন। তুর্কি সংসদের একটি কমিটি, যাদের দায়িত্ব শান্তি প্রক্রিয়ার রূপরেখা তৈরি করা, তারা এই সপ্তাহের শুরুতে ওকালানকে দেখতে যান।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পিকেকে তুরস্কের বিরুদ্ধে কয়েক দশকের সশস্ত্র লড়াই শেষ করার লক্ষ্যে বেশ কিছু ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেয়, যে সংঘাতে প্রায় ৫০,০০০ মানুষ নিহত হয়।

গত মে মাসে পিকেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তুরস্কের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই ত্যাগ করে। এরপর উত্তর ইরাকে একটি অনুষ্ঠানে ৩০ জন যোদ্ধা প্রতীকীভাবে তাদের অস্ত্র পুড়িয়ে শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

গত মাসে দলটি ঘোষণা করে যে, তারা তাদের সব যোদ্ধাকে তুরস্কের ভেতর থেকে উত্তর ইরাকে সরিয়ে আনছে। চলতি মাসের শুরুতে তারা জানায়, উত্তর ইরাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চল থেকেও তারা বাহিনী প্রত্যাহার করেছে।

মালাজগির্ত শনিবার বলেন, “আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে তুর্কি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করব না।

তুরস্ক গত বছরের শেষ দিকে পিকেকের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা শুরু করে এবং ফেব্রুয়ারিতে ওকালান গোষ্ঠীটির যোদ্ধাদের অস্ত্র ত্যাগ করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কুর্দি অধিকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানান।

তুরস্ক শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য আইনগত কাঠামো তৈরি করে। পিকেকে ও এর যোদ্ধাদের রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির প্রস্তুতির জন্য একটি আন্তদলীয় সংসদীয় কমিশন গঠন করে।

মালাজগির্ত বলেন, এই কমিটি গঠন করে তুর্কি রাষ্ট্র ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এটি যথেষ্ট নয়। আমরা তাদের কাজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।

পিকেকে বলছে, তারা কুর্দি সংখ্যালঘুদের অধিকারের জন্য গণতান্ত্রিক সংগ্রাম চালাতে চায়।

অপরদিকে সিনিয়র নারী কমান্ডার সেরদা মাজলুম গাবার বলেন, গেরিলা হলো মুক্ত জীবনের, মুক্ত মানুষের ও মুক্ত নারীর প্রতিরূপ। তাই আমরা ভিন্ন পদ্ধতিতে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে পারি। কিন্তু এতে করে গেরিলা সংগ্রাম শেষ হয়ে যায় না।

spot_img

সর্বশেষ

spot_img

এই বিভাগের

spot_img