আসা যাওয়া বন্ধ। তাহলে দুধ বন্ধ হবে নাকি! সকাল হতেই খুলে গেল দ্বার। বিরাট ফটক পেরিয়ে ‘ড্রাগনভূমি’ থেকে বালতি বালতি দুধ ঢুকতে লাগল ভারতে। জরুরি পরিষেবা তো চলতেই হবে!
করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুর কোনও পরিসংখ্যান নেই এখনও ভুটানে। এমনই বিশ্ব চমকানো নজির। তবে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় নতুন করে লকডাউন চলছে।
লকডাউন হলই বা, তাতে তো আর সবকিছু থেমে থাকে না। যেমন নিত্য প্রয়োজনীয় দুধের সরবরাহ। এই কারণেই রোজই অভিনব ঘটনা দেখা যাচ্ছে ভুটান-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায়। বিশেষ করে পূর্ব ভুটানের সামদ্রুপজংখার জেলায়। ভারতের অসম লাগোয় এই ভুটানি জেলা থেকে রোজ বালতি বালতি দুধ চালান হচ্ছে।
সকাল ছটায় নিয়ম করে অসম লাগোয়া ভুটানি জেলাটির সীমান্ত ফটক ঘড়ঘড় করে খুলে যাচ্ছে। দুধের বালতি, ড্রাম নিয়ে সীমান্ত রেখার কয়েক মিটার ভিতরে যাচ্ছেন ভারতীয়রা। দূরে দাঁড়িয়ে থাকছেন ভুটানি অফিসার ও দুধ সরবরাহকারীরা। নির্দেশ পেয়ে তাঁরা এসে সেই জার, বালতিতে দুধ ভরে দিচ্ছেন। সবকিছু চলছে লকডাউনের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে।
সামদ্রুপজংখার জেলায় দুধের যা প্রয়োজন সেটা মিটিয়েই দুধ চালান হচ্ছে ভারতে। লকডাউনের জন্য ভুটানের অন্যত্র চালান সম্ভব নয়। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ভারতে গড়পড়তা ১৪০০ লিটার দুধ পাঠাচ্ছেন।
ভুটানি দুধ চালানকারীদের যুক্তি, কাছেই সীমান্ত থাকায় ভারতের দিকে দুধ পাঠানো সুবিধাজনক। দিন প্রতি ২০০-৩০০ টাকা রোজগার হচ্ছেই।
পাছে টাকা থেকে সংক্রমণ ছড়ায়, তাই নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আগে থেকে চালান অনুযায়ী টাকা নির্দিষ্ট কোয়ারেন্টাইন বাক্সে রেখে দিচ্ছেন। সেই টাকা জীবানুনাশক করে তারপরই নিচ্ছেন ভুটানিরা।
দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই বিশ্বে এখন ভুটানের করোনা প্রতিরোধ ব্যবস্থা আলোচিত। চিন ও ভারতের মাঝে থাকা এই দেশটির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত আছে। এই আন্তর্জাতিক খোলা সীমান্ত এলাকার গভীর বনাঞ্চল হোক বা সাধারণ লোকালয় সর্বক্ষণ সতর্ক করোনা মোকাবিলায় ভুটানি ‘ডি সুপ’ বা কমলা বাহিনী।
উৎস, কলকাতা২৪*৭












