মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে ব্রিটেনের হাসপাতালসমূহে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। কোথাও কোন আসন খালি নেই।
হাসপাতালসমুহের বাইরে মৃত্যু পথযাত্রী ও তাদের স্বজনদের আর্তনাদ চলছে।
এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সারা দেশের হাসপাতাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এনএইচএস ট্রাস্টের গলদঘর্ম দশা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন গতরাতে ‘তিক্ত অনুশোচনা’ প্রকাশ করে মিউট্যান্ট কোভিডের নতুন ‘বাস্তবতা’ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
এপ্রিলের পর থেকে বৃটেনে সবচেয়ে ভয়াবহ মৃত্যুর সংখ্যা ছিল গতকাল। ২৪ ঘন্টায় ৯৮১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আক্রান্ত হয়েছেন আরো ৫০,০৩৩জন।
ফলে মধ্যরাত থেকে সারা দেশে আরো কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। আজ থেকে দেশের তিন চতুর্থাংশ এলাকার ৪৪ মিলিয়নেরও বেশি লোককে টিয়ার-৪ এর আওতায় নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে লন্ডন ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সাথে সাউথ ইস্ট, মিডল্যান্ড, নর্থ ইস্ট, নর্থ ওয়েস্ট ও সাউথ ওয়েস্টের আংশিক যুক্ত হয়েছে।
এছাড়া আইল অফ স্কিলিতে মাত্র ২,০০০ লোক বাদ দিয়ে লিভারপুলসহ বাকি সমস্ত অঞ্চল টিয়ার-৩ বিধিনিষেধের আওতাভূক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
করোনা ভাইরাসের ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলের চিকিৎসকরা বলেছেন, তারা ‘অত্যন্ত ভয়ঙ্কর’ পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন। বহু মানুষ প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছেন। নতুন রূপের করোনা ভাইরাস মিউট্যান্ট কোভিড স্ট্রেনের কারণে হাসপাতালের কর্মী, বিছানা, অক্সিজেন সব কিছুতে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের রাখার জন্য হাসপাতালসমূহের ‘ওয়ার্ডে কোনও জায়গা নেই’। ডাক্তার ও নার্সরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে হাসপাতালের বাইরে রাস্তার সারি বেঁধে রাখা অ্যাম্বুলেন্সে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
এনএইচএস প্রধানরা বলেছেন, অসুস্থতা এবং স্ব-বিচ্ছিন্নতার (আইসোলেশন) কারণে কিছু হাসপাতালের নার্সদের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনেক ট্রাস্ট তাদের স্টাফদের জানুয়ারি মাসে ছুটি বা অবকাশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করার চিন্তা করছে।












