Home Blog Page 6

ঈদের বার্তায় মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও ত্যাগের চেতনা জাগ্রত রাখার আহ্বান আফগান প্রধানমন্ত্রীর

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা, ত্যাগের চেতনা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আফগানিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মুহাম্মদ হাসান আখুন্দ।

বুধবার (২৭ মে) সকালে আরগ জামে মসজিদে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ডক্টর মোল্লা আবদুল ওয়াসি ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আলহাজ্ব মোল্লা মুহাম্মদ হাসান আখুন্দের ঈদ বার্তা পাঠ করেন।

বার্তায় দেশের জনগণকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে মুসলমানদের কুরবানি, নামাজ, দোয়া, সদকা ও নেক আমল কবুলের প্রার্থনা করা হয়। বিশেষভাবে বাইতুল্লাহ শরিফের হাজ্বীদের হজ্ব, কুরবানি ও সব নেক আমল কবুলের দোয়া করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় হজ্ব ও ঈদুল আযহার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মুসলিম বিশ্বের বহু সমস্যা ও বিশৃঙ্খলার মূল কারণ হলো বিভেদ ও আত্মকেন্দ্রিকতা।

তিনি বলেন, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন থেকে শুরু করে দেশীয় পর্যায় এবং সারা বিশ্বে সব মুসলমানের উচিত ঐক্য, সংহতি ও সহযোগিতার নীতি মেনে চলা। একই সঙ্গে শত্রুতা, ঘৃণা ও হিংসা থেকে নিজেদের দূরে রাখা।

মোল্লা মুহাম্মদ হাসান আখুন্দ বলেন, মুসলমানদের মধ্যে ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের চেতনা জীবিত রাখতে হবে। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার ওপর আল্লাহর বিধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

তিনি ইমারাতে ইসলামিয়ার দায়িত্বশীলদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, তারা যেন মানুষের কাছে ইখলাস, দয়া ও সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দায়িত্বশীলরা যেন জনগণের সঙ্গে বৈঠক ও সাক্ষাতে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেন, তাদের সমস্যা ও অভিযোগ শোনেন এবং সমাধানে মনোযোগী হন।

ঈদের দিনগুলোতে অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দায়িত্বশীলরা যেন নিজ নিজ এলাকায় শহীদ পরিবারের সদস্য, এতিম ও প্রতিবন্ধীদের খোঁজখবর নেন।

এ ছাড়া দেশের সব নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, তারা যেন দেশে ফিরে আসা মুহাজির, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এবং বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ান।

অনুষ্ঠানের শেষে মুসলমানদের কুরবানি কবুল, মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি শক্তিশালী করা এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আফগানিস্তানকে হেফাজত করার জন্য দোয়া করা হয়।