spot_img

নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের ১৩ দফা দাবি

নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপে নিজেদের বক্তব্যও দাবি তুলে ধরেছে জমিয়তে ইসলাম বাংলাদেশ।

সোমবার (২৬ জুলাই) আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনে জমিয়ত নেতৃবৃন্দ সংলাপে অংশ গ্রহণ করেন।

সংলাপে নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী, তবে এর জন্য সকল প্রকার প্রতিবন্ধকতা দূর করে যথোপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে মনে করি।
যেহেতু জনগণের ভোটাধিকার সংরক্ষণ করা মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা,যেহেতু একটি কল্যাণকর আদর্শ রাষ্ট্র বিনির্মাণে এই ভোটাধিকারের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি এবং সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ছাড়া যেহেতু দুর্নীতির মূলোৎপাটন সম্ভব নয়,তাই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন অবাধ,অর্থবহ,নিরপেক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত নির্বাচনের আয়োজন করতে সাংবিধানিক ভাবেই দায়বদ্ধ। এসময় দলের পক্ষ থেকে ১৩ দফা দাবি উত্থাপন কনা হয়।

দাবিসমূহ:
১। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবী আমরা আগেও করেছি এখনো করছি।এমনকি ইসি গঠন সংক্রান্ত সংলাপে অংশ নিয়ে আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছেও এই দাবী জানিয়েছি।

২। সকল দলের সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী) নিশ্চিত করতে হবে।

৩। নির্বাচনকে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য করতে এবং সংঘাত-সহিংসতা এড়াতে প্রতীক বরাদ্দ থেকে নির্বাচন পরবর্তী এক সপ্তাহ পর্যন্ত প্রার্থী,সমর্থক ও ভোটারদের নিরাপত্তা বিধানে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে

৪। বাংলাদেশের নারী-পুরুষ ভোটার জনতার অধিকাংশই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোট প্রদানে অভ্যস্ত নয় বিধায় ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালটেই ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

৫। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সকল প্রার্থীর এজেন্টগণের উপস্থিতিতে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার আইন শতভাগ কার্যকর করতে হবে।

৬। নির্বাচনকালীন সময়ে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকতে হবে।

৭। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়াকে নিরুৎসাহিত না করে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার আইন বাতিল করার প্রস্তাব করছি।

৮। কেন্দ্র দখল,জাল ভোট প্রদান এবং ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে আসতে বাঁধা প্রদানের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও তার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

৯। জনমনে বিতর্ক ও প্রশ্ন সৃষ্টি হয় এমন বক্তব্য প্রদানের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

১০। ত্রুটিমুক্ত ব্যবস্থা প্রবর্তন করে প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধাদেরকে ভোট প্রদান প্রক্রিয়ার আওতায় আনার দাবী জানাচ্ছি।

১১। বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। সঙ্গত কারণে এ দেশে ইসলামী রাজনীতির চর্চা থাকাটা খুব স্বাভাবিক। সুতরাং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাহীন ও জনসমর্থনহীন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের আবেদন জানাচ্ছি।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ